শাবিপ্রবিতে খালেদা জিয়ার স্মরণে আলোচনা সভা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হোসাইন ইকবাল, শাবিপ্রবি

Location :

Sylhet
শাবিপ্রবিতে খালেদা জিয়ার স্মরণে আলোচনা সভা
শাবিপ্রবিতে খালেদা জিয়ার স্মরণে আলোচনা সভা |নয়া দিগন্ত

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে ‘জাতীয় ঐক্যের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: সাজেদুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।

প্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইকবাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: ইসমাইল হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, জাতীয় ঐক্যের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের উচ্চশিক্ষা বিস্তারে অনন্য অবদান রেখেছেন। তার নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন বিষয় চালু হওয়ায় অসংখ্য শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। তিনি দেশীয় পরিমণ্ডলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একজন সম্মানিত রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও মানুষকে সম্মান করার গুণ ছিল বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি সব সময় অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। তার সময়েই দেশে ভ্যাট ব্যবস্থা চালু হয়, যা আজ রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বক্তৃতার শেষাংশে তিনি খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সিলেটবাসীকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। তাকে নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও তিনি সব সময় সহনশীল ও সৌজন্যপূর্ণ আচরণ বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্বদলীয় গণতন্ত্রের যে ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তা সুদৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

তিনি আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও মার্জিত ভাষার অধিকারী একজন নেতা। তিনি কোনো অন্যায়ের প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব পোষণ করতেন না। তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: সাজেদুল করিম বলেন, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করা বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সাতবার কারাবরণ করেছেন। তিনি কখনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থে আপস করেননি। আন্তর্জাতিক পরিসরেও তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী নেতা।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে তিনি যতটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, প্রতিটিতেই বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতি যত নির্যাতন ও অবমাননাই করা হোক না কেন, তিনি কখনো কটূক্তিমূলক বা হিংসাত্মক বক্তব্য দেননি। বরং সব সময় সহনশীলতার আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইকবাল, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো: ইসমাইল হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষকরা।

স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার আ ফ ম মিফতাউল হক।

আলোচনা সভা শেষে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।