বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান ও মুক্তচিন্তার জায়গা, সঙ্ঘাতের নয় : পাবিপ্রবি ভিসি

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার জায়গা, সঙ্ঘাতের নয়।’

বি এম মিকাইল হোসাইন, পাবিপ্রবি

Location :

Pabna
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম |নয়া দিগন্ত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার জায়গা, সঙ্ঘাতের নয়।’

রোববার (১৭ মে) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রযুক্তিনির্ভর, গবেষণামুখী ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

ভিসি বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট ক্যাম্পাস গড়ে তোলাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা যেন এক ক্লিকেই প্রয়োজনীয় সব সেবা পায়, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।’

তিনি জানান, প্রশাসনিক সেবা, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম, লাইব্রেরি, উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা ও তথ্যসেবাকে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। স্মার্ট ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত ও সহজ সেবা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে ভিসি বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব দক্ষতাও অর্জন করুক।’

এজন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাথে ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা, ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কিং ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার প্রধান ভিশন হলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মানবিক, আধুনিক ও গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম লিডিং রিসার্চ ও ইনোভেশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।’

ভিসি আরো বলেন, ‘এখান থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্বমানের দক্ষতা ও নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হবে।’

ভিসি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আউটকাম-বেজড এডুকেশন চালু, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল লাইব্রেরি সম্প্রসারণ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। গবেষণাকে শুধু অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব সমস্যার সমাধানের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।

ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার পরিবেশ যেন কোনোভাবেই দলীয় প্রভাব বা বিভাজনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে আমরা কাজ করব।’

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ভিসি বলেন, ‘গণমাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়না। সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতা, সত্যনিষ্ঠা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবেন বলে আশা করি। সমালোচনা অবশ্যই থাকবে, তবে তা যেন গঠনমূলক হয়।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো: শামীম আহসান, প্রক্টর ড. কামরুজ্জামান খান এবং ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো: রাশেদুল হক।