রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক শিক্ষার্থী ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছেন রাবির সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে সমাজকর্ম সমিতি ও সমাজকর্ম বিভাগের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে ইবির সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকারী, হত্যার পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার সন্তানের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় সরকারকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বানসহ তিন দফা দাবি জানান বিভাগের শিক্ষকরা।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ হত্যা আমাদের দেশের শিক্ষক সমাজের নিরাপত্তাহীনতার একটি চিহ্ন। এই ঘটনার খুনি বেঁচে আছে এখনো। আমার দৃষ্টিতে তার বিচার ও তার ফাঁসি পর্দার আড়ালে না হয়ে এমনভাবে হোক, যেনো তার শাস্তি দেখে মানুষ শিক্ষা পায়।’
সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. তানজিমা জোহরা হাবিব বলেন, ‘আমাদের সাবেক শিক্ষার্থী ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা যেভাবে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন, আজ আমরা তার প্রতিবাদ করার জন্য দাঁড়িয়েছি। এটা এমন একটি ঘটনা যা মেনে নেয়ার মতো না এবং বিশ্বাসযোগ্যও না। তার সহপাঠী জানেন তিনি কতটা নম্র ও ভদ্র ছিল। আমি যতদূর জানি তিনি সভাপতির দায়িত্ব নেয়ার পর নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার বিভাগকে পরিচালনার চেষ্টা করেছিলেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলার ফলশ্রুতিতে তাকে প্রাণ দিতে হলো। নৈতিকভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করা যদি অপরাধ হয়ে যায়, তাহলে আমরা সবাই তো অপরাধী। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, ‘এরকম একজন অমায়িক, নম্র ও ভদ্র শিক্ষিকা কী কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন? আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ দেখতে চাই, বাংলাদেশ সরকারের যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্বে আছেন, তাদের পদক্ষেপ দেখতে চাই। অবিলম্বে আমরা চাই যার কারণে, যে বিভাগের অদক্ষতার কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তাদেরকে চিহ্নিত করে খুনী ও খুনী চক্রকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনবে।’
বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘সাদিয়া রুনার ছোট তিনটা বাচ্চা আছে। সে একজন শুধু মা না, বিভাগের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অংশ এবং আমাদের শিক্ষক সমাজের একজন প্রতিনিধি। সারা বাংলাদেশে গত এক মাসে সাদিয়া রুনা হত্যার মতো নারী হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা পরিতাপের সাথে লক্ষ্য করছি, যখন এরকম কোনো ঘটনা ঘটে, তখন সরকারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা বললেও এক-দুই মাসের জেল-জুলুম দিয়ে কোনো বড় ভাই বা গডফাদারের প্রেক্ষাপটে তারা জামিনে বের হয়ে আসেন। একইভাবে তাদের অপকর্মের পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন। এটাই বাংলাদেশে কালচার হয়ে গিয়েছে। আমরা এ ধরনের শাস্তি দেখতে চাই না।’
উল্লেখ্য, গত বুধবার বেতন নিয়ে ঝামেলা ও অন্য বিভাগে বদলির জেরে নিজ বিভাগের কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা।



