গবাদিপশুর এলএসডি চিকিৎসার পুর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রণয়ন করলো বাকৃবি

এলএসডি একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুর কার্যকর চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রানিসম্পদ অধিদফতরের চাহিদা অনুযায়ী তাদের পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত নির্দেশনাকে পরিমার্জন করে সম্পূর্ণ চিকিৎসা নির্দেশনাটি তৈরী করা হয়েছে।

মো: লিখন ইসলাম, বাকৃবি

Location :

Mymensingh
এলএসডি চিকিৎসা নির্দেশনা হস্তান্তর অনুষ্ঠান
এলএসডি চিকিৎসা নির্দেশনা হস্তান্তর অনুষ্ঠান |নয়া দিগন্ত

লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) বা গুটি রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা গাইডলাইন বই প্রণীত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্যাথলজি বিভাগ ওই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নির্দেশনা প্রণয়ন করেছে। এ প্রকল্পের প্রধান গবেষক হিসেবে ছিলেন বাকৃবির প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তিনি নিজে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ১৩ জানুয়ারি প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এলএসডি চিকিৎসার গাইডলাইন বই হস্তান্তর করা হয়।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আর্থিক সহায়তায় এবং ‘ইনভেস্টিগেশন অব লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) অ্যাফেক্টেড হার্ডস অ্যান্ড ফরমুলেশনস কন্ট্রোল স্ট্র্যাটেজিস’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ চিকিৎসা নির্দেশনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ড. রোখসানা পারভীন বলেন, ‘এলএসডি একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্ত পশুর কার্যকর চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রানিসম্পদ অধিদফতরের চাহিদা অনুযায়ী তাদের পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত নির্দেশনাকে পরিমার্জন করে সম্পূর্ণ চিকিৎসা নির্দেশনাটি তৈরী করা হয়েছে। এই সম্পূর্ণ চিকিৎসা নির্দেশনাটি তৈরি হওয়ায় সকল ভেটেরিনারি চিকিৎসকগণ প্রমাণ ভিত্তিক চিকিৎসা করতে সক্ষম হবে যা আগে ছিলো না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এর আগে মাঠ পর্যায়ে এলএসডি রোগের চিকিৎসা করার জন্য পরিপূর্ণ কোনো ধরনের নির্দেশনা ছিলো না। আমাদের পরিপূর্ণ চিকিৎসা নির্দেশনা দিয়ে মাঠ পর্যায়ে সকল ভেটেরিনারি চিকিৎসকগণ একইভাবে চিকিৎসা করতে সক্ষম হবে এবং রোগের শুরুতে চিকিৎসা শুরু করলে চামড়ার গুনগত মানও রক্ষা পাবে।’

রাজধানীর খামারবাড়িতে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে এলএসডি চিকিৎসা নির্দেশনা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: আবু সুফিয়ান।

এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে এলএসডি রোগটি বিদ্যমান এবং সময়ের সাথে এই রোগের ভাইরাসের ধরণের পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে মৃত্যুহার বেড়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (এলআরআই) টিকা উৎপাদনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধে কাজ করছে। তবে চিকিৎসা নির্দেশনার প্রয়োজনীয়তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে পূরণ হলো।’

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি প্যাথলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো: মকবুল হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো: বয়জার রহমান, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা: বেগম শামসুন্নাহার আহম্মদ, পরিচালক (উৎপাদন) ড. এ বি এম খালেকুজ্জামান এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (এল আর) ও পিএইচডি শিক্ষার্থী ডা: ইসরাত জেরিন।