এনসিটিবি

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ৩০ কোটি পাঠ্যবইয়ের শতভাগ সরবরাহ সম্পন্ন

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল প্রান্তে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এনসিটিবি গত পাঁচ বছরের মধ্যে দ্রুততম সময়ে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) |সংগৃহীত

চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মোট ৩০ কোটিরও বেশি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল প্রান্তে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এনসিটিবি গত পাঁচ বছরের মধ্যে দ্রুততম সময়ে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করল।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এনসিটিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটিবি জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট ৩০ কোটি দু’ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী স্তরে ১১ কোটি ৭০ লাখ ৪৬ হাজার ৪৬১টি এবং মাধ্যমিক স্তরে ১৮ কোটি ৩২ লাখ আট হাজার ৬৯৩টি বই রয়েছে। এছাড়া, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষায় এক লাখ ৮৫ হাজার ৭১৫টি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ছয় হাজার ২৬টি বই সরবরাহ করা হয়েছে।

গুণগত মান ও তদারকি বিষয়ে এনসিটিবি জানিয়েছে, এ বছর পাঠ্যপুস্তকের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এনসিটিবি দফতরে নিজস্ব ল্যাবরেটরি স্থাপন করে কাগজের মান পরীক্ষা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে ছাপার মান ও বাঁধাইয়ের উৎকর্ষ নিশ্চিত করা হয়।

এর বাইরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্সের সদস্যরাও মাঠপর্যায়ে সরজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে বই সরবরাহ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই গত ২৮ ডিসেম্বর এনসিটিবি সকল স্তরের ৬৪৭টি পাঠ্যপুস্তকের অনলাইন সংস্করণ (সফটকপি) তাদের ওয়েবসাইটে (www.nctb.gov.bd) সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

এনসিটিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শতভাগ বই সরবরাহ করতে মার্চ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় লাগত। সেখানে এ বছর ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কাজ শেষ করে এনসিটিবি নতুন রেকর্ড গড়েছে। এমনকি প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই গত ১৫ ডিসেম্বর মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল।

এ বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং মুদ্রণ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এনসিটিবি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নত মানের বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিতে এনসিটিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাসস