জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, ‘সাহাবুদ্দিন চুপ্পু শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদের আইকন নন, তিনি একজন লুটেরা। তিনি ব্যাংক লুট করেছেন, বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলমের হাতে তুলে দিয়েছেন। বিদেশে বাড়ি-ঘর ও পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিয়েছেন। এরূপ ব্যক্তি তো রাষ্ট্রপতির পদে আসীন থাকার মতো যোগ্যতা রাখেন না।’
রোববার (২৬ জুলাই) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ উপলক্ষে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি দেননি, সেটা নিয়ে তিনি দুই ধরনের কথা বলেছেন। মিথ্যাচার করেছেন স্পষ্টভাবে। একবার বলেছেন যে, তার কাছে পদত্যাগপত্র দেয়া হয়েছে, আরেকবার তিনি বলেছেন যে, তার কাছে পদত্যাগপত্র দেয়া হয়নি।’
সাবেক রাষ্ট্রপতির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা যেটা মনে করি, সাহাবুদ্দিন চুপ্পু গণহত্যার সময়টাতে তার যে ভূমিকা, একটা কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির জায়গা থেকে তিনি এটাকে নিবৃত্ত করতে পারতেন, কিন্তু নিবৃত্ত করার উদ্যোগ নেননি। বরং শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। তার অতীতের যে অপকর্ম এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের যে ষড়যন্ত্র তিনি করেছেন, আমরা জেনেছি ডেইলি স্টারের বরাতে যে, লন্ডনে গিয়েও তিনি শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ করছেন। এই ধরনের ভূমিকাগুলোর কারণে তাকে এখন আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, ‘সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা অনেকেই বলছেন যে, রাষ্ট্রপতিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায় না। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল একটি কনসেপ্ট। কারণ রাষ্ট্রপতি পদে যখন তিনি থাকবেন, ঠিক সেই সময়টাতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার কার্যক্রমের জন্য তাকে কোর্টে নিয়ে আসা যায় না। তবে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে যখন কেউ সরে আসেন, তখন তার বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।’



