হিফজে বেফাকের ফলাফলে প্রথম কুমিল্লার মারজুক

মারজুকের এই সাফল্যে নিবরাস পরিবার, শিক্ষক ও তার এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে নিয়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। নিবরাস পরিবারের পক্ষ থেকে মারজুক, তার অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের (বেফাক) ৪৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় হিফজুল কোরআন বিভাগে ১৩০টি গ্রুপের মধ্যে সারা বাংলাদেশে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে কুমিল্লার কৃতি সন্তান, নিবরাস মাদরাসার হাফেজ মারজুক বিন সোহেল।

বুধবার (১৮ মার্চ) বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয় থেকে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত নিবরাস ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড মাদরাসার এই ছাত্র ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় পূর্ণ ‘ফুল মার্কস’ ২০০ পেয়ে এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করে।

ঘোষণায় হিফজ বিভাগে সারাদেশে প্রথম স্থান অধিকারকারী হাফেজ মারজুক বিন সোহেল ১০৩ নম্বর গ্রুপে যৌথভাবে ৬ জনের একজন হিসেবে প্রথমস্থান অর্জন করে।

এর আগে পিএইচপি কোরআনের আলো প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছিল মারজুক। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় হাফেজ কল্যাণ সমিতি ও কুমিল্লা জেলা কওমি মাদরাসা সংগঠনের অধীনে একাধিকবার ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেছে সে। মাত্র ১১ মাস ২৩ দিনে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করে সে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

প্রতিষ্ঠানের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নিবরাস ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মুফতি আবুল বাশার বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মারজুকের এই সাফল্য আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য এক বড় নেয়ামত। তার মেধা ও বিনয় আমাদের মুগ্ধ করে। এই অর্জনের পেছনে মারজুকের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি তার বাবা-মা এবং আমাদের শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা রয়েছে। আমরা কেবল কুরআন মুখস্থ নয়, বরং সুন্নাহ ভিত্তিক উন্নত চরিত্র গঠনের মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক গড়ার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি আদর্শ প্রজন্ম তৈরি করা।’

তার শিক্ষক হাফেজ কারি জসিম উদ্দীন আবেদিন বলেন, ‘হাফেজ মারজুক বিন সোহেলের এই অসাধারণ সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞ। একজন শিক্ষকের জন্য এর চেয়ে বড় সুখ আর কিছু হতে পারে না, যখন তার ছাত্র এমন গৌরব বয়ে আনে।’

মারজুকের এই সাফল্যে নিবরাস পরিবার, শিক্ষক ও তার এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে নিয়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। নিবরাস পরিবারের পক্ষ থেকে মারজুক, তার অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানানো হয়েছে।