প্রতি বছর দেশে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি হয়

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাকৃবির ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম।

মো: লিখন ইসলাম, বাকৃবি

Location :

Mymensingh
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম |নয়া দিগন্ত

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন ২৫০ মিলি লিটার দুধ প্রয়োজন। সেখানে আমাদের প্রাপ্যতা মাত্র ২৩৫ মিলি লিটার। দেশে বছরে প্রায় ১৫ দশমিক ৮৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন দুধের প্রয়োজন হয়। পরিসংখ্যান বলছে, এখনও দেশে তরল দুধের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি মেটাতে প্রতি বছর দেশে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি করতে হয়।

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ও বাকৃবির ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম।

শুক্রবার (৩০ মে) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

'আসুন দুগ্ধশিল্প এবং দুধের প্রভাব উদযাপন করি' প্রতিপাদ্যে আগামী ১ জুন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ১৩তম বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপিত হবে। দিবসটি উদযাপনে বাকৃবির ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আগামী ১ জুন বাকৃবি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের প্রায় ২ হাজার ৫শ’ জন স্কুল শিশুকে দুধ পান করানো, বর্ণাঢ্য র‍্যালি, সচেতনতামূলক সেমিনার এবং ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও আগামী ৩১ মে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন করিডোরে শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, হোম কিচেন ডেয়রি রেসিপি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৫ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ, সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিকুল ইসলাম, পশু পুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. খান মো সাইফুল ইসলাম, পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের ড. সুবাস চন্দ্র দাস, ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড এ কে এম মাসুমসহ ডেয়রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আশিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন দুধ উৎপাদিত হয়। দুধের উৎপাদন ঘাটতির পেছনে নানা ধরনের সমস্যা জড়িত রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ভালো জাতের দুধেল গাভীর অভাব, গো-খাদ্যের স্বল্পতা ও উচ্চ মূল্য এবং দুধ বাজারজাতকরণের জটিলতা।

তিনি আরো জানান, দুধ প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ খাবার। খাদ্যের সব পুষ্টি উপাদান দুধে বিদ্যমান থাকায় এটিকে সুষম খাদ্যও বলা হয়। দুধে থাকা ল্যাকটোজ শিশুদের মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুকোষের বর্ধনে সহায়তা করে। জন্মের সময় মানব শিশুরা মস্তিষ্কের প্রায় ৮০ শতাংশ গঠন সম্পন্ন করে আসে। বাকি ২০ শতাংশ পরবর্তী ১৫-১৬ বছরে ধীরে ধীরে গঠিত হয়। তাই শৈশবে মস্তিষ্কের বিকাশে দুধের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, যে জাতি যত বেশি দুধ পান করে, সে জাতি তত বেশি মেধাবী হয়ে ওঠে।

বাকৃবিতে দুধ উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো: হারুন অর রশীদ জানান, বাকৃবির ডেইরি খামারে প্রত্যেক দিন ৫শ’ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। যা শিক্ষার্থী ও শিক্ষেকের সংখ্যা বিবেচনয় চাহিদার তুলনায় নগণ্য। বাকৃবির নিজস্ব ডেইরি খামারের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমানে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থীর দুধের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ডেয়রি খামারের দুধ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা প্রয়োজন। এই পরিমান অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর দুধের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তবে বাজেট মাত্র ৮৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। কোন শিক্ষার্থী যদি খামারে গিয়ে দুধ চায় তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না কমপক্ষে ১ থেকে ২ লিটার করে দুধ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)র উদ্যোগে সর্বপ্রথম ২০০১ সালে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশেও এই দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।