নববর্ষের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি । নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্যকে আবারো সকলের মাঝে তুলে ধরতে বাকৃবিতে আয়োজিত হয় এই ঘুড়ির লড়াই।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ২৫ জন প্রতিযোগী তাদের ঘুড়ি নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. মো: সামছুল আলম, ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো: শহীদুল হক, সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী এক প্রতিযোগী তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, বেশ অনেকদিন পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এমন একটি আয়োজন করা হয়েছে। এখানে অংশগ্রহণ করে যেন মনে হচ্ছে আমি আমার শৈশবে ফিরে গেছি। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি এখন চোখের সামনে ভেসে বেড়াচ্ছে। এমন মনে হচ্ছে যেন আমি আমার সেই হারানো দিনগুলোকে ফিরে পেয়েছি
এ সময় জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো: শহীদুল হক বলেন, ঘুড়ি উড়ানো আমাদের বাংলার এক চিরন্তন ঐতিহ্য, যেখানে এক সময় আমাদের দেশের আপামর জনসাধারণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ঘুড়ি উড়াতে খুব পছন্দ করত। এমনকি আমাদের গ্রামীণ জনপদে কৃষকেরাও মাঠে কাজ করার পাশাপাশি আনন্দ নিয়ে ঘুড়ি উড়াতেন। দুর্ভাগ্যবশত গত দুই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে পারিনি। তবে এবার পহেলা বৈশাখের অন্যান্য অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আমরা পুনরায় এই ঘুড়ি উড্ডয়ন উৎসবের আয়োজন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি, ঘুড়ি উড়ানো কেবল একটি খেলা নয়, এটি আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির এবং ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের এই সুস্থ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য যেন আগামী প্রজন্মের মাঝেও বজায় থাকে, সেই লক্ষে আমরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত রাখবো বলে বিশ্বাস করি ।
প্রতিযোগিতা শেষে ছয়জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয় ।



