জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একটি আবাসিক হল থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় আটক শিক্ষার্থীকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে প্রকাশিত কিছু সংবাদকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল জানায়, আটক শিক্ষার্থীর সাথে জাবি ছাত্রদলের কোনো সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সংগঠনটির দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ অন্তর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল থেকে মো: ফজলে আজওয়াদ নামের এক শিক্ষার্থীকে ২১ বোতল বিদেশি মদসহ আটক করা হয়েছে। তবে আটকের পর থেকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে তাকে ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আটক শিক্ষার্থী ছাত্রদলের কোনো কর্মী বা পদধারী নন। তিনি কখনোই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কোনো পদে ছিলেন না এবং সংগঠনটির সাথে তার ন্যূনতম কোনো সম্পর্কও নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, বিগত জাকসু নির্বাচনে হল পর্যায়ে তারা সবার জন্য উন্মুক্ত প্যানেল গঠন করেছিল। সে সময় অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীরাও চাইলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সংগঠনটির ভাষ্য, এ উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল ছাত্ররাজনীতিকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিস্তৃত পরিসরে এগিয়ে নেয়া। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় অযৌক্তিকভাবে কোনো সংগঠনের ওপর চাপিয়ে দেয়া উচিত নয়। পাশাপাশি মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
এর আগে, গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে হল সংসদ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ৭২৩ নম্বর কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ১৭ বোতল ভদকা ও তিন বোতল হুইস্কিসহ মোট ২০ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আজওয়াদ গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) হল সংসদ নির্বাচনে মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সমাজ সম্পাদক পদে নির্বাচন করেন।



