নাহিদ ইসলাম

সংস্কার না হলে যেই ক্ষমতায় থাকুক, নতুন করে স্বৈরাচার হয়ে উঠবে

‘কথা বলতে গেলে আপনারা এসে দমন করবেন, আক্রমণ করবেন এবং পুলিশ এসে বাধা দেবে, প্রশাসন এসে বাধা দেবে নিরাপত্তার নামে, এটা বাংলাদেশে আর হতে দেয়া যাবে না।’

হোসাইন ইকবাল, শাবিপ্রবি
বক্তব্য রাখছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম
বক্তব্য রাখছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম |নয়া দিগন্ত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘যদি বিচার না হয়, তাহলে পূর্বতন ফ্যাসিস্ট শক্তিরা ফেরত আসবে। সংস্কার না হলে আজকে যারা ক্ষমতায় আছে বা যেই ক্ষমতায় থাকুক, এই কাঠামোতে তারা নতুন করে স্বৈরাচার হয়ে উঠবে, নব্য ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠবে।’

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) মিনি অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজনে ‘অগ্নিঝরা জুলাই : রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানের পরে দু’টি প্রধান অ্যাজেন্ডা—বিচার ও সংস্কার। আমরা বিচার চাই, কারণ বিচারের মাধ্যমেই কেবল পূর্বতন যে ফ্যাসিস্ট শক্তি তাকে দমন করা সম্ভব, তাকে ন্যায়বিচারের মধ্যে আনা সম্ভব। আর সংস্কারের মাধ্যমে নতুন কেউ স্বৈরাচার হবে না, নব্য ফ্যাসিবাদ হবে না, সেটা নিশ্চিত করা সম্ভব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এজন্য প্রত্যেকটা গণতান্ত্রিক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়কে, ছাত্রসমাজকে, শিক্ষকদের সরকাররা ভয় পায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণতন্ত্রের মানে হচ্ছে আপনার সাথে আমি দ্বিমত করব। যে আমার সাথে দ্বিমত করে তার মতপ্রকাশের অধিকার থাকবে। আপনারা কথার জবাব কথা দিয়ে দেবেন— এটাই রাজনীতি, এটাই গণতন্ত্র।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ গঠনের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এখন আমাদের গড়ার কাজ, দেশ গঠনের কাজ। আর এটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনাদের শুরু করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কার করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত রাখা— সেটা আপনারা নিশ্চিত রাখবেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই যে সেন্সরশিপ, আমরা বলব এগুলো বন্ধ করেন। এগুলোর প্রয়োজন নাই। আমি কথা বলে যাচ্ছি, যদি আমার কথা পছন্দ না হয়, আপনারা পাল্টা সমাবেশ করে আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন। এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র।’

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটা বিগত আমলের কৌশল এবং আপনারা পারলে নতুন কৌশল হাজির করেন। শেখ হাসিনাকে কপি কইরেন না। কারণ শেখ হাসিনাকে কিভাবে সরানো হয়েছে, এটা এখানকার বাচ্চা-বাচ্চা পোলাপানরাও জানে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ঠিক করবে কোন সমাবেশে যাবে, কোন সমাবেশে যাবে না। কার পক্ষে ভোট দেবে, কার পক্ষে দেবে না। কিন্তু কথা বলতে গেলে আপনারা এসে দমন করবেন, আক্রমণ করবেন এবং পুলিশ এসে বাধা দেবে, প্রশাসন এসে বাধা দেবে নিরাপত্তার নামে, এটা বাংলাদেশে আর হতে দেয়া যাবে না।’

সবশেষে তিনি বলেন, ‘যেকোনো গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে, দাবি আদায়ের পক্ষে এনসিপি সব সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকবে ইনশাআল্লাহ।’