গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) প্রো-ভিসি পদে বহিরাগত নিয়োগ না দেয়ার দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
রোববার (১০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, সম্প্রতি অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রো-ভিসি নিয়োগের গুঞ্জন শিক্ষক সমাজে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। গাকৃবিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বহু সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সিনিয়র অধ্যাপক রয়েছেন, যারা প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা রাখেন। এমন বাস্তবতায় বহিরাগত কাউকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক অ্যাকাডেমিক পরিবেশ, গবেষণা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরো বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা, বিভাজন ও অরাজক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, যা একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রো-ভিসি নিয়োগ দেয়া হলে তা গাকৃবির শিক্ষক সমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, ‘গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের কৃষি শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার এক গর্বিত আলোকবর্তিকা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র্যাংকিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি বৈশ্বিক অঙ্গনেও নিজেদের সক্ষমতা ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও পরীক্ষিত শিক্ষকদের মূল্যায়ন হওয়াটাই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক প্রত্যাশা।’
সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা, অ্যাকাডেমিক সংস্কৃতি ও গবেষণার ধারাবাহিকতা রক্ষায় এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা এ প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা, সঙ্কট ও সম্ভাবনার সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।’
মানববন্ধন শেষে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ, স্থিতিশীলতা ও অ্যাকাডেমিক অগ্রগতির কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রো-ভিসি পদে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে এক বিবৃতিতে শিক্ষক সমিতি বর্তমান প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম ময়নুল হকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক নেতা হিসেবে অভিযোগ তুলে তার নিয়োগ বাতিলেরও দাবি জানিয়েছিল। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।



