‘জুলাইয়ের ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করলে সরকারকে ৩৪ বছর নির্বাসিত হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে’

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বুধবার (২৯ জুলাই) ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবেরকে প্রধান অতিথি করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক আলোচনা সভা ও শহীদদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ, পাবিপ্রবি শাখা।

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি

Location :

Pabna
পাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ মিছিলে ইনকিলাব মঞ্চের আবদুল্লাহ আল জাবের
পাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ মিছিলে ইনকিলাব মঞ্চের আবদুল্লাহ আল জাবের |নয়া দিগন্ত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বুধবার (২৯ জুলাই) ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবেরকে প্রধান অতিথি করে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক আলোচনা সভা ও শহীদদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইনকিলাব মঞ্চ, পাবিপ্রবি শাখা।

তবে আবদুল্লাহ আল জাবেরের ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি না নেয়ার অভিযোগে তাদের কর্মসূচি করতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ইনকিলাব মঞ্চের অভিযোগ, জাবেরের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলের আপত্তি থাকায় তাদের এ কর্মসূচি করতে দেয়া হয়নি।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে ইনকিলাব মঞ্চ। এতে আবদুল্লাহ আল জাবের সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘বর্তমান সরকার আমাদের কোনো শত্রু নয়। কিন্তু সে যদি জুলাইকে বারবার বিতর্কিত করে জুলাইয়ের ওপর আঘাত হানবার চেষ্টা করে, তাহলে ১৭ বছরের নির্বাসিত যে জীবনযাপন করেছে, তাকে অন্তত আগামী ৩৪ বছর নির্বাসিত হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলা হলো।’

আবদুল্লাহ আল জাবের আরো বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই—আগামী দিনে ইনকিলাব মঞ্চ, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, বাংলাদেশের অন্যতম বড় ঘাঁটিতে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ। কোথা থেকে ফোন আসে, কীভাবে একটি প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যায়—এসব আমরা জানি। আমরা শুধু একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। একজন এই দেশে বসে ২০৪১ সালের নানা স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে এসে গরম ভাতের থালা রেখে তাকে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে হয়েছে। এখন আবার আরেকজন নতুন করে ২০৩৪ সালের নানা স্বপ্ন আমাদের শোনানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, জুলাইয়ের সাথে যদি গাদ্দারি করা হয়, জুলাইয়ের শহীদদের যদি অবমাননা করা হয়, তাহলে ২০২৬ কখনোই ২০২৭-এ পৌঁছাতে পারবে না। যে জুলাই আপনাকে এই চেয়ার দিয়েছে, যে জুলাইয়ের ১,৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারে বসেছেন, সেই জুলাইয়ের কর্মসূচি বন্ধ করার যে পাঁয়তারা করছেন—একটি বিষয় মনে রাখবেন, বাংলাদেশ থেকে জুলাই হারিয়ে যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলো হয়তো তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিয়েছেন, গ্যালারিতে তালা মেরে দিয়েছেন; কিন্তু মনে রাখবেন, এখানেই এখনো শত শত মানুষ অবস্থান করছে। বাংলাদেশে শহীদ ওসমান হাদীকে হত্যা করার মাধ্যমে আপনারা মনে করেছিলেন, ইনকিলাবের যাত্রা বুঝি থামিয়ে দিতে পেরেছেন। কিন্তু না—আজ ইনকিলাব সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে। আর আপনি তো মাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারে বসে আছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের মৌখিকভাবে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দিয়েছিল। পরে তারা লিখিত আবেদনও জমা দেন। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর পূর্বমুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, জাবেরের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলের আপত্তি থাকায় কর্মসূচি করতে দেয়া হবে না।

এ বিষয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক মজনু আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছিল এবং তারা জানত যে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন। আমরা লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু সময় ও স্থান চূড়ান্ত করার পর আজ লিখিত অনুমতিপত্র নিতে গেলে সেটি আর দেয়া হয়নি।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত আবেদনই দেয়নি। তারা জুলাইয়ে আহত শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কর্মসূচি করতেই পারে। কিন্তু বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা সংগঠনের অতিথিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনতে হলে এ বিষয়ে অনুমতি নিতে হয়। তারা সে অনুমতি নেয়নি। তাই তাদের কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়া হয়নি।’

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অভিনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, মাসুদুর রহমান আদনান, হাবিবুল্লাহ মেজবাহ, আবু ওমায়ের, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাবনা জেলার সাবেক আহ্বায়ক বরকতুল্লাহ ফাহাদ, সাবেক মুখপাত্র সিরাজ্জুম মুনিরা, ইনকিলাব মঞ্চের পাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক মজনু আলম, সদস্যসচিব ইব্রাহিম খলিল, পাবনা জেলা ও পাবিপ্রবি শাখার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ইনকিলাব মঞ্চের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।