জুলাই জাতীয় সনদকে বাংলাদেশের মানুষের রক্তে লেখা দলিল আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রপরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সাথে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট প্রচারের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, ‘কাগজে কালো কালিতে ছাপা হলেও বাস্তবে এই সনদের প্রতিটি অক্ষর মানুষের রক্তের বিনিময়ে লেখা।’
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ও গণভোটের প্রচার বিষয়ক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আপনাদের কাছে যে জুলাই জাতীয় সনদের কপি পৌঁছেছে, তা কালো কালিতে ছাপা। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর রক্ত দিয়ে লেখা।’
তিনি বলেন, ‘প্রশ্নটি খুবই সহজ—প্রাণের বিনিময়ে তৈরি এই জুলাই সনদের সাথে জনগণ আছে কি না, সেটিই গণভোটে নির্ধারিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি দিন নয়, এটি একটি সিদ্ধান্তের সময়। এখান থেকেই নির্ধারিত হবে জাতি কোন পথে অগ্রসর হবে।’
তিনি সবাইকে একত্রিত হয়ে একটি সম্ভাবনাময়, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে বিচারব্যবস্থার কাছে জনগণ পৌঁছাতে পারে না, তার কাছ থেকে ন্যায়বিচার আশা করা যায় না। ৫৪ বছরে বাংলাদেশের মানুষ ঘরের দরজায় বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। এই কাঠামোগত সঙ্কট থেকে উত্তরণের জন্য মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘এসব সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য এমন একটি জাতীয় সংসদ প্রয়োজন, যার সংবিধান সংশোধনের পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে। সে কারণেই আসন্ন জাতীয় সংসদ একই সাথে সংবিধান সংস্কারের পরিসর হিসেবে কাজ করবে। জনগণ গণভোটের মাধ্যমে যদি এই দায়িত্ব তাদের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেয়, তবে তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না।’
জুলাই জাতীয় সনদে উত্থাপিত সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি বিষয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এগুলো পরস্পর সম্পর্কিত মৌলিক বিষয়। এসব বিষয়কে চারটি প্রধান কাঠামোয় উপস্থাপন করে একটি মাত্র প্রশ্নে জনগণের মতামত নেয়া হচ্ছে। এটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের উদ্যোগ।’
কিছু অপপ্রচারের জবাবে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহ’ অপসারণ বা মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকারের কোনো বিষয় নেই। বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি সংযুক্ত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বহুধর্মী, বহুভাষী ও বহুজাতিগোষ্ঠীর দেশ। সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই এই সনদের লক্ষ্য।’
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা প্রাণ দিয়ে এই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন, তারা জাতির ওপর এক গুরুদায়িত্ব অর্পণ করে গেছেন। সেই দায়িত্ব যেন অবহেলায় নষ্ট না হয়।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো: সাইদুর রহমান ও শাবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী। এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: নিজাম উদ্দিন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আবদুল লতিফ, লিডিং ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. মো: তাজ উদ্দীন, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভিসি অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল, শাবিপ্রবি প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো: সাজেদুল করিম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।



