পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের মতো গুরুতর অভিযোগে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) নয়জন শিক্ষার্থীকে অ্যাকাডেমিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা নির্ধারণকারী সংস্থা বোর্ড অব ডিসিপ্লিনের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যা রুয়েটের অ্যাকাডেমিক শৃঙ্খলা ও নৈতিক মানদণ্ড রক্ষায় একটি কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রুয়েট প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় অবস্থিত কনফারেন্স রুমে বোর্ড অব ডিসিপ্লিনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক।
২০২৬ সালের প্রথম ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন বোর্ড অব ডিসিপ্লিনের সদস্য সচিব ও রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকারসহ বোর্ডের অন্য সম্মানিত সদস্যরা।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত নয়জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আটজনকে দুই শিক্ষাবর্ষের (চার সেমিস্টার) জন্য এবং অপর একজনকে এক সেমিস্টারের জন্য অ্যাকাডেমিকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই পরীক্ষায় মোবাইল ডিভাইস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি বিশেষ করে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের মাধ্যমে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ আনা হয়। এ সংক্রান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব ডিভাইস ফেরত দেয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য আপিলের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের কাছে আপিল করতে পারবে। সেখানে সুরাহা না হলে পরে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অ্যাকাডেমিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে।



