ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী আইডিয়াল কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে মতভেদ এখন প্রকাশ্যে। কলেজটির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেযওয়ানুল হকের স্থলাভিষিক্ত হতে চান রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ সোহেল। এ নিয়েই তাদের মতভেদ।
ড. সোহেলের দাবি ১৬ এপ্রিলের পর থেকে রেযওয়ানুল হকের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসার কোনো বৈধতা নেই। তবে রেযওয়ানুল হক বলছেন নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার নিয়োগ এক্সটেনশন করেছে।
এ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ আছে অধ্যক্ষের কক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিরও। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় মামলা হয়েছে। গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটির। বরখাস্ত করা হয়েছে পাঁচজন শিক্ষককে। এতে কলেজের পরিবেশ আরো উত্তপ্ত হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা বরখাস্তের আদেশ গ্রহণ করেননি। তারা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর দিচ্ছেন। নিচ্ছেন ক্লাসও। সব মিলে শিক্ষকদের দু’টি পক্ষ তৈরি হয়েছে।
একটি পক্ষে আছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেযওয়ানুল হক। অপর পক্ষে ড. খন্দকার মোহাম্মদ সোহেল। ড. সোহেলের অনুসারীরা রেযওয়ানুল হককে কলেজ থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন। গভর্নিং বডির সভাপতিকে কলেজে ঢুকতে দেয়া হবে না এমনটাও প্রচার হচ্ছে। অভিযোগ আছে নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছেন দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত সাবেক অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে।
ড. সোহেল নিজেকে সিনিয়র দাবি করলেও তার নিয়োগের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রেযওয়ানুল হকের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন। তাদের অভিযোগ ড. সোহেল নিয়োগ পরীক্ষায় ফেল করেছেন। ২০১২ সালে বিষয়ভিত্তিক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তখন তিনি যোগদান করেননি। ২০১৫ সালে নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আগের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে তিনি নিয়োগ পেয়ে যান।
তবে ড. সোহেল বলছেন, ২০১২ সালে সহকারী অধ্যাপক পদের ইন্টারভিউতে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। সে সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার কারণে গভর্নিং বডির অনুমতি নিয়ে নিয়োগ স্থগিত রাখা হয় এবং পিএইচডি শেষে তিনি যোগদান করেন। ২০১৫ সালে যে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার কথা বলা হচ্ছে তা প্রভাষক পদের ইন্টারভিউ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২০১৮ সালে ড. সোহেলকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল বলে জানায় কলেজ কর্তৃপক্ষ। ২০২৩ সালের আগস্টে শর্ত সাপেক্ষে পুনর্বহাল হন তিনি।
পাঁচ দশক আগে ১৯৬৯ সালে একটি সাধারণ অবকাঠামো থেকে যাত্রা শুরু করে আইডিয়াল কলেজ আজ একটি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। একাডেমিক উৎকর্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশ এবং নৈতিকভাবে দৃঢ়, পূর্ণাঙ্গ নাগরিক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির জন্য কলেজটি সুপরিচিত। বছরের পর বছর ধরে কলেজটি অসংখ্য চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে তার অবকাঠামো, শিক্ষাক্রম এবং সুনাম বিস্তার করেছে। শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ। ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে কলেজটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। কলেজটি তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ধরে রাখতে পারবে এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের।



