ফজলে রাব্বি পরশ, রাবি প্রতিনিধি
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বামুনশালিক বা শঙ্খশালিকের উপস্থিতি কমে গেলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে সারা বছরই দেখা মেলে এ বিরল পাখিটির।
নিরাপদ আবাসস্থল, পর্যাপ্ত খাবার ও অনুকূল পরিবেশের কারণে ক্যাম্পাসটি পাখিটির অন্যতম নির্ভরযোগ্য আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বামুনশালিক সাধারণত বৃক্ষবাগান, তৃণভূমি, ভেজা মাঠ, চাষের জমি ও ঝোপঝাড়ে বিচরণ করে। এরা মাটিতে পোকামাকড় খোঁজার পাশাপাশি গাছেও অবস্থান করে। ফল, পোকামাকড় ও ফুলের মধু এদের প্রধান খাবার। আকারে মাঝারি এ পাখির দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ সেন্টিমিটার। কালো মাথা ও ঝুঁটি, ধূসর দেহ এবং হলুদ পা এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
পুরোনো গাছের কোটর, দেয়ালের ফাঁক কিংবা পরিত্যক্ত গহ্বরে এরা বাসা বাঁধে। শুকনো ঘাস, পাতা ও পালক দিয়ে বাসা তৈরি করে সাধারণত তিন থেকে চারটি নীলচে ডিম দেয়। মার্চ থেকে জুন-জুলাই পর্যন্ত তাদের প্রজননকাল।
রাবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও আলোকচিত্রী ফাহিম মুন্তাসির রাফিন জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যাম্পাসের পশ্চিমপাড়ায় প্রথম তিনি বামুনশালিকের দেখা পান। বর্তমানে পশ্চিমপাড়া, সিলসিলা, শহীদ মিনার, হেলিপ্যাড, জুবেরি এলাকা ও প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পাখিটির বিচরণ রয়েছে। খাবারের প্রাচুর্যের কারণে ডাস্টবিনের আশপাশেও এদের তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
পাখি গবেষক ও রাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুজ্জামান মো: সালেহ রেজা বলেন, ‘খাদ্য, আবাসস্থল, নিরাপত্তা ও অনুকূল পরিবেশ—পাখির টিকে থাকার জন্য এসব মৌলিক বিষয় প্রয়োজন। রাবি ক্যাম্পাসে এসব সুবিধা থাকায় বামুনশালিক এখানে অবস্থান করছে এবং প্রজননও করছে।’
তিনি বলেন, ‘পাখিটির আবাসস্থল নষ্ট না করাই সংরক্ষণের প্রধান উপায়।’
অন্যদিকে আলোকচিত্রী ফাহিম মুন্তাসির রাফিন প্রজনন মৌসুমে পাখিদের বিরক্ত না করা, বাচ্চা না ধরা এবং পাখির বাসা ও বাচ্চা চুরি রোধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।



