নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চিঠিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন (শাকসু) স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে শাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় (আইআইসিটি ভবন) সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।
জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না—বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।
এদিন নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে কোনো ধরনের নির্বাচন আয়োজন করা যাবে না।
এ খবর গণমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা হল থেকে বের হয়ে চতুর্মুখী মিছিল নিয়ে শাকসু কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এসময় তারা ‘শাকসু আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘শাকসু দিতে হবে ২০ তারিখে’, ‘শাকসু নিয়ে টালবাহানা মানি না, মানব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ছাত্রদলের শাবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রয়েছে। এখন যদি প্রশাসন ইসি’র সিদ্ধান্ত অন্ধভাবে মেনে নেয়, তাহলে আমরা ধরে নেব তারা শিক্ষার্থীবান্ধব নয়।’
ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখার সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই টালবাহানা চলছে। ভিসি স্যার প্রথমে বলেছিলেন নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন হবে। পরে নানা অজুহাতে তা পিছিয়ে ১৭ নভেম্বরের তারিখ ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনের মুখে আবার ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের ঘোষণা আসে। তখন নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য বলেছিলেন, আমাকে মেরে ফেললেও ২০ তারিখে নির্বাচন হবে। জাতীয় নির্বাচন কোনো বাধা হবে না বলেও তখন আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। অথচ আজ হঠাৎ করে মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের কথা বলে নির্বাচন স্থগিতের চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা প্রশাসনের হঠকারী সিদ্ধান্ত ছাড়া কিছু নয়। আমরা ২০ তারিখেই শাকসু নির্বাচন চাই এবং আদায় না করা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি-শিক্ষার্থীদের পালস বুঝে সিদ্ধান্ত নিন। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা এর জবাব দিতে প্রস্তুত।’
উল্লেখ্য, শাকসু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ জানুয়ারি। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা ইতোমধ্যে প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছেন।



