১২ হাজার কলেজশিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

‘দেশের ৬৪ জেলার ৫০০ উপজেলায় বিস্তৃত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দুই হাজার ২৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এসব শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে আরো দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

উচ্চশিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পাঠ্যসূচি সংস্কারসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এর অংশ হিসেবে সারাদেশের ১২ হাজার কলেজশিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার ৫০০ উপজেলায় বিস্তৃত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দুই হাজার ২৮৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এসব শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাকে আরো দক্ষতাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারের পরিবর্তিত চাহিদার প্রেক্ষাপটে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক পর্যায়ে আইসিটি কোর্স বাধ্যতামূলক করেছে। সরকারের এটুআই প্রকল্প ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের সহায়তায় প্রণীত এ পাঠ্যক্রম বর্তমানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আইসিটি শিক্ষা প্রদানের জন্য দক্ষ শিক্ষক তৈরি করতে প্রাথমিকভাবে ১২ হাজার কলেজশিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আগামী ৭ জুন রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টি ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউট এবং ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করা হবে বলে জানান তিনি।

অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ৮৯ জন কোর ট্রেইনার এবং ৮৪০ জন মাস্টার ট্রেইনার প্রস্তুত করা হয়েছে। এ কাজে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে এটুআই প্রকল্প ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সিং সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। একইসাথে শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, এ লক্ষ্যে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা চলছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ বর্তমানে প্রায় ১০ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিবছর এ হার ১০ শতাংশ করে বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ দিতে মাল্টি ল্যাংগুয়েজ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি কলেজে ইতোমধ্যে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কলেজেও এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের সবুজায়ন কর্মসূচিতে অংশীদার হতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর আওতায় আগামী পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী প্রতিবছর একটি করে গাছ রোপণ করবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে ইতোমধ্যে প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অধ্যাপক আমানুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব সংস্কার কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বাসস