ট্রান্সফরমারের অভাবে বন্ধ রাবি গ্রন্থাগারের এসি, গরমে নাকাল শিক্ষার্থীরা

গরমের কারণে দীর্ঘ সময় গ্রন্থাগারে বসে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসি বসানো হলেও চালু না থাকায় কোনো সুফল মিলছে না।

রাবি প্রতিনিধি

Location :

Rajshahi
রাবি গ্রন্থাগার
রাবি গ্রন্থাগার |নয়া দিগন্ত

প্রচণ্ড গরমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পড়তে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের জন্য ১০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) কেনা ও স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার সংযোগ না থাকায় এসিগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উন্নয়নকাজে বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে চার কোটি টাকা দেয়া হয়। এ অর্থে ১০টি এসি কেনার পাশাপাশি টাইলস সংযোজন, পানির পাইপলাইন প্রতিস্থাপন, টয়লেট সংস্কারসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। এসিগুলো স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ হলেও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ লোডের কারণে ৪০০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন ছাড়া সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না।

গ্রন্থাগারে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা জানায়, গরমের কারণে দীর্ঘ সময় গ্রন্থাগারে বসে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসি বসানো হলেও চালু না থাকায় কোনো সুফল মিলছে না। দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন করে এসিগুলো চালুর দাবি জানান তারা।

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অপারেশন ম্যানেজার এম এ এন মমিনুর রহমান বলেন, ‘গ্রন্থাগারের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে একযোগে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে এমিগো ইঞ্জিনিয়ারিং কোং ইতোমধ্যে এসি সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে এসিগুলো চালু করতে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যমান বিদ্যুৎ সংযোগ অতিরিক্ত লোড বহন করতে পারছে না। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রকৌশল দফতর জানিয়েছে, নতুন ৪০০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার ছাড়া এসিগুলো চালু করা সম্ভব নয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে ট্রান্সফরমার ক্রয় ও স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কাজ শেষ হলেই গ্রন্থাগারের নতুন এসিগুলো চালু করা হবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘কোনো ইনিস্টলমেন্ট বাস্তবায়ন তাড়াহুড়ো করে সম্ভব না। যত ধরনের টেকনিক্যাল কাজকর্ম দরকার এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে শিক্ষার্থীদের উপকারে কাজ করা দরকার। আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীদের অনেক সময় অনেক কাজ বিভিন্ন দফতরে আটকে থাকে তা অবশ্যই কষ্টকর।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো: আব্দুল আলিম বলেন, ‘আগামীকাল ভিসি মহোদয় ক্যাম্পাসে ফিরবেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রন্থাগারের এসিগুলো চালুর জন্য প্রয়োজনীয় সংযোগের ব্যবস্থা করা হবে।’