ছাত্রত্ব শেষেও হলে থাকার সুযোগ, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান জাকসু নেতাদের

জাকসুর জিএস বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ধরনের নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য দুঃখজনক। জাকসু বডির সাথে এ বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি।’

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Location :

Dhaka
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার |ফাইল ছবি

‎ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত হলে অবস্থান করতে পারবেন—প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন খোদ জাকসু নেতারা।

বুধবার (‎২৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

‎এতে বলা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এবং হল সংসদগুলোর বিভিন্ন পদে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তাদের সংশ্লিষ্ট পদের মেয়াদ থাকা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাদ্দকৃত হলে অবস্থান করতে পারবেন।

প্রশাসনের এমন বিশেষ সুবিধার আদেশ সামনে আসতেই তার তীব্র প্রতিবাদ জানান জাকসু প্রতিনিধিরা।

‎জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, ‘মাননীয় ভিসি স্যার, এরকম কোনো অন্যায় দাবি জাকসু থেকে আমরা করিনি। কার পরামর্শে এবং কোনো আইনের বলে আপনি এসব করছেন? আমরা আপনার এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করলাম। আশা করি আপনি আপনার এই অফিস আদেশ প্রত্যাহার করবেন।’

‎সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাপ্পি ক্ষোভ জানিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব শেষ হলে অবশ্যই তাকে হল ত্যাগ করতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বা অন্য কারো জন্য অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করার অধিকার কারো নেই।’

‎তিনি আরো বলেন, ‘আজ অফিস আদেশের মাধ্যমে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের ছাত্রত্ব শেষ হলেও হলে থাকার যে অনুমোদন দেয়া হয়েছে, একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে এটি আমাদের জন্য অসম্মানজনক। সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিনিধির সাথে আলোচনাও করা হয়নি। এটি শিক্ষার্থী ও প্রতিনিধিদলের মাঝে বৈষম্য তৈরি করছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য।’

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ধরনের হঠাৎ ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমরা এতে অবাক হয়েছি। জাকসু বডির সাথে এ বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি। জাকসু নির্বাচনের গঠনতন্ত্র সংশোধন না করে এবং জাকসুর গঠনতন্ত্রের সাথে সামঞ্জস্য না রেখেই এমন সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর মাধ্যমে হলে অবৈধ অবস্থানকে বৈধতা দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে। জাকসুর মাধ্যমে এমন বৈধতা দেয়ার প্রশাসনের আগ বাড়িয়ে নেয়া সিদ্ধান্তের আমরা প্রতিবাদ করছি।’