ঢাকা ইউনিভার্সিটি মডেল ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে চার দিনব্যাপী ছায়া জাতিসঙ্ঘ সম্মেলন আজ শনিবার নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে শেষ হয়েছে।
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বজায় রেখে কার্যকর বহুপক্ষীয়তাকে সুসংহত করা।’
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতিসঙ্ঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক, ঢাকাস্থ সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ বিভাগের প্রধান আলবার্তো জিওভানেত্তি এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশন্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মো: রাকিব-উজ-জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল আহতাব জামিল মাহিন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই, যা প্রধানত জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। একইসাথে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় একটি দায়িত্বশীল ও সহযোগিতামূলক অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রকৃত ভিত্তি স্বচ্ছতার মাঝেই নিহিত।
সততা ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে একটি পরিবর্তিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত ও পুনরুদ্ধারের বিষয়টিকে বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোর সাথে সরকার যৌথভাবে কাজ করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম কাঙ্ক্ষিত সমাজ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণরা কেবল কোনো এক প্রত্যাশিত ভবিষ্যতের জন্য নয়, তারা বর্তমান সময়েই সঠিক বিচার-বিবেচনা, দায়িত্ববোধ ও দৃঢ় প্রত্যয়ের পরিচয় দিতে সক্ষম। তরুণরা যেমন নিজেদের সংগঠিত করতে পারে, তেমন দায়িত্বশীল পদধারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় পাঁচ শ’ শিক্ষার্থী চার দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। লিঙ্গ বৈষম্য, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, মানবাধিকার, মানবপাচার, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, অভিবাসন নীতি, ভূ-রাজনৈতিক এবং কূটনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা এ সম্মেলনে আলোচনা করেন।



