বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক আব্দুল হাই শিকদার বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ভারতীয় আধিপত্য কায়েমের অন্যতম অস্ত্র এবং শেখ মুজিব ফ্যাসিবাদ কায়েমের অস্ত্র। এ দুই অস্ত্রকে আমাদের চ্যালেঞ্জ করতে হবে।’
বুধবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নজরুল জয়ন্তী সেমিনারে মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আব্দুল হাই শিকদার বলেন, ‘পলিটিক্যাল ফ্যাসিজমের আইকন মুজিব আর কালচারাল ফ্যাসিবাদের আইকন রবীন্দ্রনাথ। দুই আইকনকে আওয়ামী লীগ বানিয়েছে এবং বাধ্য করা হয়েছে তাদের পূজা করার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতাকে বলা হয়েছে দেশদ্রোহিতা। অথচ রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা আমার মতের স্বাধীনতা, এর সাথে দেশদ্রোহীতার সম্পর্ক নেই। শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে কথা বললে ১০ বছর জেল হতো। গায়ের জোরে এ দুই দেবতাকে সবখানে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।’
এ কবি বলেন, ‘কাজী নজরুলের নামে একটা বিশ্ববিদ্যালয় করেছিল বিএনপি গভর্নমেন্ট। এর প্রেক্ষিতে দেশে তিনটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। এ সবকিছু ইন্ডিয়ার প্রজেক্ট।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে নজরুল ভয়াবহভাবে উপেক্ষিত। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস অনুসরণ করে সিলেবাস এমনভাবে করা হয়েছে যে, কোনো ছাত্র নজরুলকে না পড়েই বাংলায় অনার্স করতে পারে। এ ‘শয়তানি সিলেবাস’ বদলে নজরুলকে সিলেবাসে ভালোভাবে যুক্ত করতে হবে। কালচারাল আধিপত্যবাদ থেকে বাঁচতে আমাদের অবিরল নজরুল চর্চা করতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাংলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর রহমানে সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাংগীর আলম। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



