বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ইন্ডাস্ট্রি গড়তে চান ইবি ভিসি

ভিসি বলেন, সরকারের উদ্যোগের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিকে গবেষণার প্রতি আকৃষ্ট করা এবং তাদের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার সাথেও এর মিল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা এবং শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে যৌথতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

নয়া দিগন্ত

নাজমুস সাকিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান উচ্চশিক্ষার সাথে শিল্পখাতের সংযোগ বাড়ানো, গবেষণায় ইন্ডাস্ট্রিকে সম্পৃক্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব ও ব্যবহারিক জ্ঞানভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইউজিসির দুই দিনব্যাপী নীতি-নির্ধারণী সংলাপ শেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিসি বলেন, সরকারের উদ্যোগের মধ্যে ইন্ডাস্ট্রিকে গবেষণার প্রতি আকৃষ্ট করা এবং তাদের দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনার সাথেও এর মিল রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা এবং শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে যৌথতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পখাতের উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে শিক্ষা ও শিল্পের সংযোগ আরো কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একইসাথে শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তব ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এজন্য শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনা এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কারিকুলাম তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।

উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে ভিসি বলেন, এতদিন শিক্ষার ক্ষেত্রে সংখ্যাগত ধারণাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে—কতজন পাস করল, কতজন বাড়ল। এখন সংখ্যার পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৃত অর্থে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষার্থী তৈরি করতে শিক্ষার মানের ওপর গুরুত্ব দেয়া জরুরি।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন নিয়ে তিনি জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন হাবের কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নতুন চিন্তা, উদ্ভাবনী ধারণা ও স্টার্টআপ ভাবনা বিকাশের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি একটি টেকনোলজিক্যাল ইকোসিস্টেম ও ডাটাসেন্টার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রূপান্তর প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, দেশ এখন এআই প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে। তাই এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কেও এগিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিক ‘এডু আইডি’ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শিক্ষকেদের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের সমন্বয় হলেই একটি যোগ্য গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা সম্ভব। নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য তিন থেকে চার মাসের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাধারণ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা ও পাঠদান পদ্ধতির ওপরও গুরুত্ব দেয়া হবে।

এছাড়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাসরুম, স্মার্ট ক্যাম্পাস, ডিজিটাল ল্যাব, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও গবেষণার অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান ভিসি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং, শিক্ষা সহায়ক তহবিল, পার্ট-টাইম জব, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।