জাতীয় নির্বাচনের আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের দাবিতে ফের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেলে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার, ‘সাধারণ ঐক্যস্বর’ প্যানেলের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী হাফিজুর ইসলামসহ আরো অনেকে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘রিট করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’, ‘মব করে শাকসু, বন্ধ করা যাবে না’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’— এমন নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগেই শাকসু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) প্রতিটি বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধিদের (সিআর) সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, রোববার (২৫ জানুয়ারি) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শাটডাউন থাকবে। যতদিন শাকসু নির্বাচন না হবে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।’
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো: নাসিম বলেন, ‘আগামীকাল চেম্বার জজ আদালতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে সোমবার দুই প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থীর করা রিট আবেদনের পর হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য শাকসু নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিনই শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এরপর মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) ও বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮টি বিভাগে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি, যদিও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু ছিল।
শাকসু নির্বাচন ঘিরে চলমান এই আন্দোলন নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি করেছে।



