রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে (বেরোবি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে মোবাইলফোন ও পকেট রাউটারসহ জি এম সারোয়ার আহমেদ নামে এক পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ওই পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।
আটকের পর সাংবাদিকদের কাছে দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৬ পেয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাকে দুর্নীতি করে ৪৭ দেয়। আমি এখানে পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছি। আপনি বিশ্বাস করেন, আপনি আমার রুম চেক করুন, আমি কি কাউকে চিনব?’
ডিভাইস কেন এনেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে আটক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি পরিস্থিতির শিকার। যদি আমি পেছনে বসতাম, যদি সুযোগ পেতাম একটা, তাহলে গুগল থেকে সার্চ-টার্চ মারতাম। আর কোনো অন্য ইয়ে নাই। আপনি ওই ফোনে দেখতে পারেন, চ্যাটজিপিটি বা অন্য কোনো অ্যাপ নেই। আমার যদি ভাগ্য থাকতো পেছনে বসার, তাহলে দেখতাম, নাহয় দেখতাম না শুধু এইটাই।’
এ বিষয়ে বেরোবির প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘ওই পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে তার সাথে কোনো চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টার কারণে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে আমাদের লিগ্যাল সেল ও মোবাইল কোর্টসহ সংশ্লিষ্টরা বসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবু নাসের মো: ওয়াহিদ বলেন, ‘যদি কোনো শিক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বন করে অথবা তার কাছে কোনো অবৈধ কিছু পাওয়া যায়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি ও প্রশাসন বিষয়টি দেখবে। আর যদি হল বা কেন্দ্রের বাইরে কোনো অপরাধ ঘটে, তবে সেটি প্রচলিত আইনের আওতায় পড়বে। এখানে দুইভাবে বিষয়টি সমাধান করা যায়। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে; দ্বিতীয়ত, পুলিশের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।’



