পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) শূন্য থাকা ভিসি পদে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকে নিয়োগের জন্য মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ‘পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ’ ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন (বিবিএ) বিভাগের চেয়ারম্যান ও ‘জুলাই ৬’ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেও নেপথ্যে সহযোগিতা করেছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা।
এ সময় আওয়ামী লীগের শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দল’ থেকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করা ও গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফজলুল হককে বক্তব্য দিতেও দেখা যায়। মানববন্ধনে ড. ফজলুল হক বলেন, ‘ গত ১৫ মার্চ থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নেই। তিনি রিজাইন দেয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের সার্টিফিকেট তুলতে পারছেন না। তার অনুমতির অভাবে সেমিস্টারের রেজাল্টও দেয়া যাচ্ছে না। ফলে আমাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। আমার ২ জন স্টুডেন্ট ফুল ফান্ডে বিদেশে স্কলারশিপ পেয়েছে কিন্তু তারা ভিসি না থাকায় মূল সার্টিফিকেট তুলতে পারছেন না। এছাড়া আমাদের অফিসার, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন আটকে আছে।’
ড. ফজলুল হক ছাড়াও মানববন্ধনে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সভাপতি ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য ড. মো. আবদুর রহিম, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা ড. মাসুদ রানা, সাবেক প্রক্টর ড. কামাল হোসেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য শিক্ষক এস. এম. হাসান সাজ্জাদ ইকবাল, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ড. রেদওয়ানুজ্জামান, বঙ্গবন্ধু পরিষদের ক্রীড়া সম্পাদক আল ফাহাদ ভূঁইয়া, বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, রতন কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকরা ছাড়াও মানববন্ধনে আওয়ামীপন্থী প্রায় সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিসি নিয়োগের নামে মানববন্ধন করে মূলত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের ক্যাম্পাসের পুনরায় জায়গা করে দেয়া হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এক সাথে কোথাও দেখা না গেলেও এই মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষকদের দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন আওয়ামীপন্থী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আজকের মানববন্ধনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দেখে হতাশ হয়েছি। যে প্রক্টরের মেয়াদকালে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন সেই প্রক্টরও আজকে মানববন্ধন করছেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদককে যখন মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে দেখি তখন হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকে না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধ্যাপক বলেন, ‘গত কয়েকদিন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিসি0 নিয়োগের যে আন্দোলনের কথা হচ্ছে সেটার সামনে মূলত ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের (বিবিএ) চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান। আর তাকে সহযোগিতা করছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা। ড. কামরুজ্জামান আওয়ামী লীগের আমলে আওয়ামী শিক্ষকদের চাইতেও বেশি সুবিধাভোগী। যেহেতু তিনি পূর্বে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মাধ্যমেই সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন তাই তিনি বিএনপির আমলে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সবচেয়ে বেশি সুবিধা দেবেন এটাই স্বাভাবিক।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের (বিবিএ) চেয়ারম্যান ড. মো. কামরুজ্জামানকে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।



