চেক ডিজঅনার মামলায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে কর্মরত সহকারী রেজিস্ট্রার মো: সোহাগ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পাবনা সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
পাবনা সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আদালতের সিআর মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে ওই দিনই তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে, মো: সোহাগ হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি টাকা হাতিয়ে নিতেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, আফজাল হোসেনের ছেলেকে চাকরি দেয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা, শহিদুল ইসলামের ছেলেকে চাকরি দেয়ার আশ্বাস দিয়ে চার লাখ টাকা এবং উজ্জ্বল মাস্টারের ছেলেকে চাকরি দেয়ার কথা বলে আরো পাঁচ লাখ টাকা নেয়াসহ আরো কয়েকজনের থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে চাকরি দেয়ার আশ্বাসে এসব টাকা নেয়া হয়। টাকা নেয়ার সময় কাউকে ব্ল্যাংক চেক ও কাউকে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেয়া হয়েছিল বলে তারা জানান।
ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সোহাগ আমার কাছ থেকে টাকা নেয়ার সময় একটি ব্ল্যাংক চেক দেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে তিনি তা দিতে গড়িমসি করেন। পরে এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে বসলে তিনি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে টাকা পরিশোধের কথা দেন। প্রায় চার বছর ধরে তিনি আমাকে ঘুরাচ্ছেন। শুধু আমার কাছ থেকেই নয়, চাকরি দেয়ার কথা বলে আরো অনেকের কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন। আমরও ভবিষ্যতে আইনের সহায়তা নেবো।’
আরেক ভুক্তভোগী আফজাল সরদার বলেন, ‘আজকে শুনেছি একটা মামলায় সোহাগ গ্রেফতার হয়েছে। আমাকে সে টাকা দেবে দেবে বলে অনেক বছর হলো টাকা দিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় অফিস রুমে গিয়ে কয়েকদিন খোঁজ করেও তাকে পাইনি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ‘সোহাগ অনেক আগে থেকেই চাকরি দেয়ার নাম করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। তিনি নিয়মিত অফিস করেন না। অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িত থাকতে পারেন। বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাসে পাওনাদাররা এসে তার খোঁজ করেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত।’
এ বিষয়ে পাবনা সদর থানার ডিউটি অফিসার মো: ইজাজ বলেন, ‘কোর্ট বা আদালতের সিআর মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’



