ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ছাত্র-জনতার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্রণীত সনদ ও গণভোটের রায় দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। একইসঙ্গে এসব অর্জন বাস্তবায়নে আইনজীবী সমাজ ও ছাত্রসমাজের সম্মিলিত ভূমিকা দরকার। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সনদ ও গণভোটের রায়: আইনজীবীদের অবদান এবং করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কারণেই জুলাই অভ্যুত্থান বিপ্লবে রূপ নিয়েছে এবং এর ফলেই বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে। তিনি গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জনগণের মতামতকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
ছাত্রপক্ষের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, জুলাই আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লড়াই। এ সময় আন্দোলনে আইনজীবীদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তার বিষয়টি তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপিপন্থী আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত জানালেও এর আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। সাংবিধানিক পরিবর্তন সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।
সভায় ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে নামবে।
সহ-সভাপতি আকিব হাসান বলেন, জুলাইয়ের অর্জন রক্ষায় তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে এবং আইনি ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।
যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আবির বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সাংগঠনিক উদ্যোগ জোরদার করার পাশাপাশি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবী ও ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।



