ঢাবিতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ইফতার মাহফিল

‘আমরা আশা করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও দেশনায়ক তারেক রহমানের দেখানো পথ অনুসরণ করে উত্তরোত্তর এগিয়ে যাবে।’

নয়া দিগন্ত অনলাইন
ঢাবিতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
ঢাবিতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত |নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ছাত্রদলের উদ্যোগে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ১৯৭১ ও ২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে মুহসীন হলের অভ্যন্তরের খোলা স্থানে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে কোরআন খতম, দোয়া ও ইফতার বিতরণ করা হয়। মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন আবুজার গিফারী ইফাত, সঞ্চালনা করেন মনসুর আহমদ রাফি এবং সার্বিক তত্ত্বাবধান ছিলেন তানভীর আহমেদ জিয়াম।

অনুষ্ঠানে মুহসীন হল ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সাবেক নেতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক হল সভাপতি হারুনুর রশিদ শিশির ও সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন শাওন, সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, ওমর ফারুক মামুন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান রনি এবং ঢাবি ছাত্রদলের আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুল ইসলামসহ অন্যরা।

সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ শিশির বলেন, ‘নব্বই-এর দশকে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই এবং হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হল অ্যাটাচ পাই, তখনই নিজেকে গর্বিত মনে করতাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি তখন এই মহসিন হল থেকেই পরিচালিত হতো। মহসিন হলকে ছাত্রদলের সূতিকাগার বলা হয়। আগে এমন সময় ছিল, যখন সকল মিছিলে অংশ নেয়ার জন্য অন্যান্য হলের নেতাকর্মীরা মুহসিন হল ছাত্রদলের জন্য অপেক্ষা করত। সময়ের সাথে সাথে জাতীয় ও ছাত্ররাজনীতিতে কৌশলগত পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্বার্থে দেশকে নতুন করে গড়ার লক্ষ্যে জনকল্যাণমুখী রাজনীতির সূচনা করেছেন। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও দেশনায়ক তারেক রহমানের দেখানো পথ অনুসরণ করে উত্তরোত্তর এগিয়ে যাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস তার বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম সফল রাষ্ট্রপতি আখ্যায়িত করে তার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন শাওন বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে শহীদ হওয়া সকল শহীদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সভাপতির বক্তব্যে মুহসীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজার গিফারি ইফাত বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর হাজী মুহাম্মদ মুহসিন হল শাখা অতীতে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না, যাতে সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বরং আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি মুহসীন হল ছাত্রদলকে একটি আদর্শ ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে। ভবিষ্যতেও যদি কোনো অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, মুহসীন হল ছাত্রদল সর্বদা দেশের মানুষের কল্যাণ এবং ন্যায় ও সত্যের জন্য সবার আগে রাজপথে থাকবে।’

অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং উপস্থিত সকলের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হয়।