জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৫৩তম ব্যাচের (২৩-২৪ সেশন) এক নারী শিক্ষার্থীকে ব্লাকমেইল করে বাসায় নিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম আবর্তনের এক সাবেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীর থেকে ৯৯৯ নম্বরে কল পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করি। পরে তিনি বাদি হয়ে মামলা দায়ের করলে আমরা তা গ্রহণ করি। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণ ও মারধরের সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার পুলিশ ৯৯৯ এ কলের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়। সেখানে তিনি তার বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন। ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ওই নারী শিক্ষক বলেন, সাবেক ছাত্রের সাথে ভুক্তভোগী ছাত্রীর সম্পর্ক ছিল। পরে ভেঙে যায়। তবে মঙ্গলবার সাবেক ওই ছাত্র ভুক্তভোগীর হলের সামনে গিয়ে অশোভন আচরণ করেন। একপর্যায়ে সাবেক ওই ছাত্র কথা বলার জন্য বাসায় যেতে ওই ছাত্রীকে জোরাজুরি করেন। তিনি রাজি না হলে তাকে ব্ল্যাকমেল করেন। পরে সাবেক ওই ছাত্রের বাসায় যান ভুক্তভোগী। তখন ছাত্রীর মুখ টেপ দিয়ে আটকে তাকে মারধর করা হয়, হাতে গরম পানি ঢেলে দেয়া হয়। পরে বাসার কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে সাবেক ওই ছাত্র চলে যান। তখন ৯৯৯–এ কল দিয়ে জানালে পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
অভিযুক্তের নাম তারিকুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা আব্দুর রশিদের ছেলে।



