দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কর্মচারীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশনের (বাআবিকফ) আহ্বানে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়ক কর্মচারী সমিতি, শাবিপ্রবি কর্মচারী ইউনিয়ন ও কারিগরি কর্মচারী সমিতির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে শাবিপ্রবি কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো: তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন গ্রহণ করেছে। অথচ এখন বলা হচ্ছে, পে-স্কেল দেয়া হবে না। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। তাহলে কমিটি গঠনের প্রয়োজনই বা কি ছিল? শুরু থেকেই যদি পে-স্কেল কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত থাকত, তাহলে কর্মচারীদের এতো আন্দোলন ও ভোগান্তির প্রয়োজন পড়ত না।’
তিনি আরো বলেন, ‘পে-স্কেলের ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই বাজারদর লাগামহীনভাবে বেড়েছে। কিন্তু আজও তা কার্যকর হয়নি। এতে কর্মচারীরা চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন। আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি, ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই পে-স্কেল কার্যকর করতে হবে। অন্যথায় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন যে কর্মসূচি ঘোষণা করবে, শাবিপ্রবি কর্মচারীরাও তা বাস্তবায়ন করবে।’
সমাবেশে শাবিপ্রবি কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রমজান আহমেদ বলেন, ‘২০১৫ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত কর্মচারীদের কোনো বেতন বৃদ্ধি হয়নি। প্রায় ১০ বছর ধরে আমরা ২০১৫ সালের ২০তম গ্রেডের আট হাজার ২৫০ টাকা বেতনেই জীবনযাপন করছি। অথচ বর্তমান বাজারদরের তুলনায় ওই বেতনের বাস্তব মূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটি পরিবারের ন্যূনতম ব্যয় বিবেচনায় শুধু খাদ্য খরচেই ছয় সদস্যের মাসে প্রায় ২৭ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। এর সাথে বাসাভাড়া, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা ব্যয় ও অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ যুক্ত হলে ১৫ হাজার টাকার বেতনে একটি পরিবার চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
রমজান আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীরা এ বঞ্চনা সহ্য করে আসছেন। সরকারের প্রতি আস্থা রেখে গত বছরের জুন মাসে আমরা কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছিলাম। সম্প্রতি সেই কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেয়া হলেও, এখন পর্যন্ত গেজেট প্রকাশের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি।’
তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের আহ্বানে দেশের সব সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা একসাথে কর্মসূচি পালন করছে। নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হবে।



