নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ঝামেলা হয়েছিল। তবে আমরা আসার পর এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।’

এস এম মোজতাহীদ প্লাবন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
সংঘর্ষে আহত ছাত্রদল কর্মী
সংঘর্ষে আহত ছাত্রদল কর্মী |নয়া দিগন্ত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের দু’পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এ সময় একাধিক ছাত্রদল কর্মী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে লাবিব নামে এক ছাত্রদল কর্মী হাসপাতালে ভর্তি হন।

আহত লাবিব থিয়েটার অ্যান্ড পারফর্মেন্স স্টাডিজ বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। জানা গেছে তিনি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকারের কর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে টিএসসির সামনে আহ্বায়ক হাবিব আহমেদের কর্মীদের সাথে সদস্য সচিব মামুন সরকারের কর্মী রাশেদুল হাসান রাতুলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা অগ্নিবীণা হলের সামনে জড়ো হলে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার সূত্রপাত হয়। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীদের দেশীয় অস্ত্র হাতে অগ্নিবীণা ও বিদ্রোহী হলের মাঝে অবস্থান নিতে দেখা যায়। মধ্যরাতে দেশীয় অস্ত্রসহ একপক্ষ অগ্নিবীণা হল থেকে বিদ্রোহী হলে ধাওয়া দিলে প্রক্টরিয়াল টিম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।

এর আগে আহ্বায়কের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের যে সকল অনুসারী নৈরাজ্যে করছে তাদের বিরুদ্ধে মিছিল করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। দাবি করা হয় সেই মিছিল বাঞ্চাল করতেই অপরপক্ষের কয়েকজন কর্মী উস্কে দিতে থাকে।

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, ‘আমি ঘটনার শুরুতে ক্যাম্পাসে ছিলাম না, আমি আসার পর পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আমি চাই না ক্যাম্পাসে এমন মারামারি, অরাজকতা তৈরি হোক। তারা হয়তো স্বার্থসিদ্ধির জন্য এমন ঘটনা তৈরি করছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ বলেন, ‘আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যারা নৈরাজ্য তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যেন কোনো অবস্থায় অনুপ্রবেশ করে নৈরাজ্য তৈরি করতে না পারে তার ব্যাপারে আমরা কার্যকর ভূমিকা পালন করবো।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো: মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে ঝামেলা হয়েছিল। তবে আমরা আসার পর এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রবেশদ্বারে অতিরিক্ত নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা যায়। এ নিয়ে ইনচার্জ জুলফিকার আলী জানান, ‘পরিস্থিতি আগের চেয়ে স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা যথেষ্ট সতর্ক অবস্থানে রয়েছি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছি।’