চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা এবং প্রশাসনের নিশ্চুপ ভূমিকার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থী, জাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র ও জোটভুক্ত প্রার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এলাকায় মানববন্ধন করেন। পরে বিকেল ৫টায় পৃথকভাবে মানববন্ধন করে জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল—সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নীরব ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে মার্কেটিং বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’র ভিপি প্রার্থী আরিফুজ্জামান উজ্জল বলেন, আমরা দেখেছি গতকাল রাত থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর যে ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে, আমরা পুলিশ বাহিনী ও সেনাবাহিনীকে নির্বিকার ভূমিকা পালন করতে দেখেছি। আমরা দেখেছি তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কোনো ধরনের তৎপরতা চালাচ্ছে না। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্পষ্ট করে বলতে চাই- যেই শিক্ষার্থীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা দায়িত্ব নিয়েছেন এই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনাদের। অন্যদিকে, আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত তো দূরে থাক এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী নির্বিকার ভূমিকা পালন করেছে। আমরা অবিলম্বে হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী এবং ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর যেভাবে নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি হামলাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া না হয় তাহলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ স্বরূপ লং মার্চ টু চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেবে।
ইংরেজি ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, চবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর গতকাল রাতে যে হামলা করা হয়, তা এখনো চলমান। এ হামলায় শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অনেকেই আহত। কিন্তু ইনটেরিয়ামসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও সেনাবাহিনী নিশ্চুপ রয়েছে। আমরা ইনটেরিয়াম সরকারকে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, আমরা সেই প্রজন্ম যারা স্বৈরাচারে সরকারের পতন ঘটিয়েছে। শিক্ষার্থীদের রক্তের সাথে কোন আপস করা হবে না। যদি আপনারা আপস করেন তাহলে আপনাদের অবস্থা সেই পলাতক স্বৈরাচারের মতো হবে। সরকারকে দ্রুতই এই হামলার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
অপরদিকে ছাত্রদল—সমর্থিত প্যানেলের মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ভাইদের ওপর যে হামলা হয়েছে সেটা বাংলাদেশকে পিছিয়ে নেয়ার এবং গণতন্ত্রকে রুখে দেয়ার হামলা। ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মব সৃষ্টি হচ্ছে এগুলো কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। আমরা মনে করছি এই মব কালচার নিছক কোনো ঘটনা নয়, এর পেছনে দুরভিসন্ধিমূলক কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে। পতিত স্বৈরাচার চলে গেলেও তাদের শাখা রয়ে গেছে। যারা বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ইন্টেরিম সরকারের উচিত এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গতকাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত যে হামলা চলমান রয়েছে সেটি শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপরই হামলা নয়; এটি দেশের সকল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সমান। আজ যেই হামলা হচ্ছে সেটি একদিনে হয়নি জুলাইয়ের পরে যে মব ও ট্যাগিং কালচার তৈরি হয়েছে সেটা নিয়ে আমাদের সকলের কথা না বলার কারণেই আজকের এই অবস্থার পটভূমি। আজকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা হয়েছে, কালকে জাহাঙ্গীরনগরে হবে, তারপর পুরো বাংলাদেশে হামলা হবে। অন্তর্বতীকালীন সরকারের উচিত ট্যাগিং ও মব কালচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।



