বেরোবিতে সংঘর্ষের নেপথ্যে ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারীদের সম্পৃক্ততা

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান বলেন, ‘ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলার সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। পরে কয়েকজন ব্যক্তির আচরণের কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তাদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে আমরা অবগত ছিলাম না।’

Location :

Rangpur

রংপুর ব্যুরো
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই অভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’–সংক্রান্ত একটি ব্যানার নিয়ে আপত্তি তোলেন। ওই ব্যানারে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার কয়েকজন নেতার ছবি থাকায় তা সরিয়ে নেয়ার দাবি জানানো হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি নাইমুল ইসলাম নিরব লাঠি হাতে শিবিরের নেতাকর্মীদের দিকে এগিয়ে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

এদিকে সংঘর্ষের পর ছাত্রদল নেতা নাইমুল ইসলাম নিরবের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি অতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম জাহান হিরণ ও সালমান ইমতিয়াজ সাকিবের বিরুদ্ধেও।

ছাত্রদলের একটি সূত্র দাবি করেছে, অনুপ্রবেশকারী হিসেবে অভিযুক্ত কয়েকজন নেতার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণেই পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বর্তমান কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জহির রায়হান বলেন, ‘ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলার সময় পরিস্থিতি শান্ত ছিল। পরে কয়েকজন ব্যক্তির আচরণের কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তাদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে আমরা অবগত ছিলাম না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করছি, এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ইন্ধন থাকতে পারে।’