ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রিন ফোরামের উদ্যোগে ‘চব্বিশের জুলাই: জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গগন হরকরা গ্যালারিতে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সংগঠনটির সভাপতি প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ভিসি প্রফেসর ড. একেএম মতিনুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীব। বিশেষ অতিথি প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. ইদ্রিস আলী। এছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মুহা. কামরুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দুর্নীতি, দুঃশাসন ও রাজনৈতিক অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন। এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল শুধু সরকার পরিবর্তন নয়; বরং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, অবাধ নির্বাচন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, জনবান্ধব পুলিশ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা।
তবে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নেয়া হলেও মব সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, মূল্যস্ফীতি ও সংস্কারের ধীরগতির কারণে জনগণের প্রত্যাশা কমে এসেছে। তাই জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা জরুরি।
প্রধান আলোচক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারী শাসনের পতন, যা অর্জিত হয়েছে। তাই চব্বিশের জুলাইকে জাতির ‘যৌথ স্মৃতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ব্যক্তিস্বার্থের পরিবর্তে সমষ্টিগত চেতনাকে ধারণ করতে হবে। আমাদের ইতিহাসের সব আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ইনসাফ, অধিকার ও আত্মমর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া। তবে রাষ্ট্র নাগরিকের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
এ অবস্থায় আইনের শাসন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। একইসাথে সুশিক্ষাকে বাংলাদেশের মুক্তির প্রধান মাধ্যম উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুশিক্ষা, ইনসাফ ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমেই তরুণদের হাত ধরে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। পাশাপাশি রাজনীতি ও নেতৃত্বে মেধার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণযোগ্য বলেও মন্তব্য করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভিসি প্রফেসর ড. মতিনুর রহমান বলেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক অর্জন নয়; এটি সাধারণ শিক্ষার্থী, মেহনতি মানুষ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সর্বস্তরের জনতার আত্মত্যাগের ফসল। তাই এ অর্জনের একক মালিকানা দাবি না করে ১৯৭১ ও ১৯৭৫-পরবর্তী ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী চেতনাকে ধারণ করতে হবে। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়-সহ সর্বত্র নীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ থেকে বৈষম্যহীন সমাজ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।



