সিকৃবি প্রতিনিধি
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের দুটি গ্রুপের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড আলিমুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল, অধ্যাপক মোজাম্মেল হক আহত হয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আলিমুল ইসলাম জানান, ‘আজ আমার চেম্বারে যা ঘটেছে, তা একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যারা প্রশাসনের পরিবর্তন মেনে নিতে পারছেন না, তারাই মূলত ‘মব’ তৈরি করে এই হামলা চালিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার পর আগের প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা কাজে অসহযোগিতা করছিলেন, যার ফলে আমি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হই। আজ যারা পদ হারিয়েছেন তারা পরিকল্পিতভাবে আমার চেম্বারে এসে ‘মব’ সৃষ্টি করেছেন। তারা কেবল আমাকে অপদস্থই করেনি, আমার উপস্থিতিতেই সিনিয়র শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলেছে। এমনকি বর্তমান প্রক্টর জসিম উদ্দিন সাহেবের ওপরও শারীরিক আক্রমণ চালানো হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘটনার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই এটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। এর মানে হলো এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত একটি ষড়যন্ত্র।’
অন্যদিকে আরেক গ্রুপের আহত শিক্ষক মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল অভিযোগ করেন, ‘ভিসির বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন ও প্রতিবাদ জানালে হঠাৎ করেই তাকে লক্ষ করে আক্রমণ করা হয়। হামলায় নেতৃত্ব দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহমেদ।’
আহত আরেক শিক্ষক অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়া, শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে আমরা কথা বলতে গেলে তার অনুসারীরা আমাদের ওপর চড়াও হন এবং হট্টগোল সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে প্রক্টর জসিম উদ্দিন আমার গায়ে লাথিও মারেন। এছাড়া কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমাদের কয়েকজন শিক্ষককে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে।’



