জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নবনিযুক্ত ভিসির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ, সুমন সরদার ও তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকরা হলেন সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো: শরিফুল ইসলাম এবং গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবু হানিফ। ঘটনার পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অবিহিত করলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবু হানিফ বলেন, ‘সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে নবনিযুক্ত ভিসির দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমি ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল আমার গতিরোধ করেন এবং অপ্রীতিকরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন ছাত্রদল নেতা সুমন সরদার, জাফরসহ ২০-২৫ জনের মতো নেতাকর্মী।
তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করেন যে, আমার সাথে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে তার কাছে বিভিন্ন ছবি রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আমাকে দ্বৈত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। আমি এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন যে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একপর্যায়ে আমার সাথে থাকা এক সহকর্মী তাকে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে তাকে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করেন। একই সাথে তিনি আমাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়ার হুমকি দেন এবং জোরপূর্বক আমার এক বন্ধুর ফোন নিয়ে নেয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘পরিস্থিতি আরো অবনতি হলে তিনি আমাকে ধাক্কা দেন এবং আমার বন্ধুকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। সেই সময়ও আমার বন্ধুকে ঘটনাস্থলে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। পরে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর এজিএসকে বিষয়টি জানালে কিছুক্ষণ পর তিনি আমাকে জানান যে আমার বন্ধুকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি ভিসি স্যারকে অবগত করেছি এবং ক্যাম্পাস খুললে তিনি আমাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন।’
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, ‘স্যার শান্ত চত্বর থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় ভিসি ভবনে আসলে সর্বপ্রথম আমার সাথে দেখা হয়। তখন স্যার আমার সাথে ঘটনা শেয়ার করলে আমি তাৎক্ষণিক ওখানে অবস্থানরত জকসুর সদস্য ও ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য রিয়াসাল রাকিব ভাইকে ফোন দেই। তিনি তখন ওখান থেকে স্যারের বন্ধুকে উদ্ধার করেন।’
হেনস্তের শিকার হওয়া সমাজর্ম বিভাগের আরেক শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘হিমেল, সুমন সরদার, জাফরসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যখন অধ্যাপক ড. আবু হানিফের সাথে খুবই বাজে আচরণ করছিলো, তখন আমি বিষয়টি প্রতিবাদ করেছি। তখন তারা আমার কাছ থেকেও ফোন কেড়ে নিতে চেয়েছে। একইসাথে আমাদের সাথে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক পরিচয় হিমেল জানার পরও এটা নিয়ে সে জেরা করতে থাকে। পরে আমরা বলেছি আমরা মিলন ভাইয়ের রাজনীতি করি। তখন সে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিমূলক কথা বলেছে। এক পর্যায়ে সে মিলন ভাইসহ আমাদের জামায়াত ট্যাগ দেয় যা আমাদের কাছে খুবই বিব্রতকর ছিলো। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং এ মুহূর্তে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। আমরা ঘটনার পরপরই ভিসিকে জানিয়েছি। দেখি সে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা দিয়ে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি মেসেজের কোনো উত্তর দেননি।
এ ঘটনার বিষয়ে নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড রইস উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল হানিফ আমার কাছে এসেছিল। আমি শুনেছি এই ধরণের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা সবাই মিলে মিলেমিশে থাকতে চাই।’
পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তারা ফোন কেটে দেন।



