রুয়েটে ৩ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ

স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও মেধার যথাযথ মূল্যায়নই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।

Location :

Rajshahi
রুয়েটে ৩ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ
রুয়েটে ৩ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ |নয়া দিগন্ত

রুয়েট সংবাদদাতা

বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিন দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এক জোরালো বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রুয়েট সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিল রুয়েট মেইন গেট অতিক্রম করে তালাইমারি মোড়ে এসে সড়ক অবরোধ করে। এতে রুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ‘SAE পদে অবিচার, এবার চাই ন্যায়বিচার’, ‘কোটা না মেধা? মেধা, মেধা!’, ‘প্রকৌশলীর সকল পদ, প্রকৌশলীদের অধিকার’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত করেন পুরো এলাকা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা প্রকৌশল পেশায় মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করছেন।

বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘একবার তো দিলাম প্রাণ, আবার কেন কোটা চান?-এই স্লোগান এখন প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের হৃদয়জুড়ে থাকা বঞ্চনার প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে উঠেছে।’

সমাবেশে রুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকার, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেলসহ কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া ও মেধার যথাযথ মূল্যায়নই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে।’

অধ্যাপক রাসেল বলেন, ‘এই দাবি শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, পুরো জাতির কল্যাণের সাথে জড়িত।’

আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত তিনটি মূল দাবি হলো-

১. সহকারী প্রকৌশলী (৯ম গ্রেড) পদে সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে, প্রমোশনাল কোটা বাতিল করতে হবে।

২. উপ-সহকারী প্রকৌশলী (১০ম গ্রেড) পদে ডিপ্লোমা কোটা বাতিল করে সকল ইঞ্জিনিয়ারের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

৩. বিএসসি ডিগ্রি ব্যতীত কেউ ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবী ব্যবহার করতে পারবে না।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে পুরকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০-এর শিক্ষার্থী শিহাব হোসেন জানান, তারা কোনো ব্যক্তিগত বা পেশাগত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নন, বরং প্রকৌশল পেশাকে মর্যাদার জায়গায় ফিরিয়ে আনতেই এই আন্দোলন।

তারা আরো জানান, রুয়েট প্রশাসনের সদ্য প্রকাশিত এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ১০ম গ্রেডে বিএসসি ও ডিপ্লোমা উভয়ের জন্য সমান সুযোগ রাখা হয়েছে-যা তাদের দাবির আংশিক প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।

প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচির শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং জাতীয় পর্যায়েও কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় রুয়েট সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে।