এনসিটিবি

সারাদেশে স্কুলগুলোর জন্য ২৪ কোটি বই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে

প্রাথমিক স্তরে আমাদের সাধারণ শিক্ষাধারার বইয়ের সংখ্যা ছিল আট কোটি ৫৯ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৪টি। এটা আমরা ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যেই ডেলিভারি করে ফেলেছি শতভাগ।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
এনসিটিবি
এনসিটিবি |ইন্টারনেট

বছরের প্রথম দিনে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য বই প্রার্থী নিশ্চিত করার লাখ্যে ইতোমধ্যে সারাদেশের স্কুলগুলোতে ২৪ কোটি বই পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

আজ সারাদেশের সকল স্কুলের শিক্ষার্থীরা বই হাতে পেয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার অধ্যাপক ড. রিয়াদ চৌধুরী বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ড. রিয়াদ চৌধুরী আরো বলেন, আমাদের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রাক প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত টোটাল বইয়ের সংখ্যা হচ্ছে ৩০ কোটি দুই লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি, আর এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমাদের বই সরবরাহ করা হয়েছে ২৪ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ১০টি। অর্থাৎ ডেলিভারি হয়েছে ৮২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এটা হচ্ছে ওভারঅল পিকচার।

তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরে আমাদের সাধারণ শিক্ষাধারার বইয়ের সংখ্যা ছিল আট কোটি ৫৯ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৪টি। এটা আমরা ডিসেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যেই ডেলিভারি করে ফেলেছি শতভাগ।

এনসিটিবির সিনিয়র এই সদস্য আরো বলেন, প্রাথমিক স্তরে মাদরাসার শিক্ষাধারার বই সংখ্যা ছিল তিন কোটি ১১ লাখ ১৯ হাজার ৩৪৭টি। এর মধ্যে ডেলিভারি হয়েছে দুই কোটি ৯৫ লাখ আট হাজার ৬৮২ অর্থাৎ ৯৫ দশমিক ০৮ শতাংশ।

ড. রিয়াদ চৌধুরী বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য আলাদা করে বলছি এ জন্য যে সেটা আলাদা করে গুরুত্বের দাবি রাখে।

তিনি বলেন, আমাদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী যারা, তাদের বই সংখ্যা হচ্ছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৭১৫টি এবং এটাও শতভাগ ডেলিভারি হয়ে গেছে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সিনিয়র এ সদস্য জানান, সেকেন্ডারিতে আমাদের মাধ্যমিক স্তরে যে তিনটা শিক্ষাধারা আছে- সাধারণ, মাদরাসা ও কারিগরি, এই তিনটি মিলে টোটাল বইয়ের সংখ্যা হচ্ছে ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪০ হাজার ৯২৭টি।

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে আমাদের আজকে পর্যন্ত, মানে আজ সকাল আমি ৮টার ডেটা বলছি, এগুলো যা যা বলছি, সবই ডেলিভারি হয়েছে ১৩ কোটি ১৪ লাখ ৭৫৮৫৪ অর্থাৎ ৭১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।’

ড. রিয়াদ চৌধুরী আরো বলেন, আর ক্লাস ধরে যদি বলি ক্লাস সিক্সে আমাদের বইয়ের বরাদ্দ ছিল চার কোটি ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০৯টি। এর মধ্যে ডেলিভারি হয়েছে তিন কোটি ৫৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯১০টি। পারসেন্টেজে দাড়ায় ৮১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

তিনি বলেন, ক্লাস সেভেনে বইয়ের বরাদ্দ সংখ্যা ছিল চার কোটি ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯২টি। এর মধ্যে আজকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেলিভারি হয়েছে দুই কোটি ৬১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৮৫, অর্থাৎ ৬২ দশমিক ৮৬ পারসেন্ট।

তিনি আরো বলেন, ক্লাস এইটে বরাদ্দ হচ্ছে আট কোটি দুই লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৮টি বই। ডেলিভারি হয়েছে দুই কোটি ছয় লাখ ৮৮ হাজার ৩৯৫, অর্থাৎ ৫১ দশমিক ৪২ শতাংশ আর ক্লাস নাইনে বইয়ের বরাদ্দকৃত সংখ্যা হচ্ছে পাঁচ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ২৮টি। এর মধ্যে ডেলিভারি হয়েছে চার কোটি ৮৬ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৪ অর্থাৎ ৮৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।

ড. রিয়াদ চৌধুরী বলেন, এই টোটাল বইয়ের মধ্যে যেটা বললাম ৩০ কোটি দুই লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪, এর মধ্যে ব্রেইলের পাঠ্য বইয়ের সংখ্যা হচ্ছে ছয় হাজার ২৬টি। ব্রেইল পাঠ্য বইয়ের ডেলিভারি হয়ে গেছে চার হাজার ৫২০টি অর্থাৎ ৭৬ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং আমরা আশা করছি যে আগামী ১৫ জানুয়ারি আমাদের শতভাগ ডেলিভারি হয়ে যাবে।

সূত্র : বাসস