ছাত্রীদের রাতে হলে প্রবেশের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধির দাবি ডাকসুর

ডাকসু নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এই ডিজিটাল সিকিউরিটি ব্যবস্থা চালু হলে ছাত্রী হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেত। পাশাপাশি রাতে হলে প্রবেশের সময়সীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিদ্যমান যে জটিলতা রয়েছে, তারও একটি যৌক্তিক ও স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হতো।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, অহেতুক হয়রানি বন্ধ এবং রাতে প্রবেশের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।

ডাকসু জানায়, ছাত্রী হলে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বহিরাগত বা অছাত্রদের অবৈধ প্রবেশ রোধে যাচাই-বাছাইয়ের নামে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিরসনে প্রতিটি ছাত্রী হলে আধুনিক ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিল তারা। এমনকি এ লক্ষ্যে স্পন্সরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের সুবিধাজনক ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছিল।

ডাকসুর অভিযোগ, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড পাঞ্চ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি আধুনিক সিকিউরিটি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়ে ডাকসু প্রতিনিয়ত কাজ করেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা ও শেষ মুহূর্তে অনুমোদন না দেয়ার কারণে অত্যন্ত জনকল্যাণমুখী এই উদ্যোগটি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

ডাকসু নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এই ডিজিটাল সিকিউরিটি ব্যবস্থা চালু হলে ছাত্রী হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেত। পাশাপাশি রাতে হলে প্রবেশের সময়সীমা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিদ্যমান যে জটিলতা রয়েছে, তারও একটি যৌক্তিক ও স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হতো।

একইসাথে, নারী শিক্ষার্থীদের রাতের বেলা হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে যে অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হয় তা অবিলম্ব বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি হলে প্রবেশের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব হলে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করা এবং এক হলের নারী শিক্ষার্থীদের অন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রশাসনের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া, মেয়েদের দেখতে আসা পিতামাতা ও অভিভাবকদের হলে প্রবেশ কেন্দ্রিক ভোগান্তি রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার জোরালো দাবি উত্থাপন করা হয়।

ডাকসুর পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, বিগত সময়ে এসব সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে ফলপ্রসূ ও বাস্তবসম্মত আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। প্রশাসনের এই দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এসব জরুরি দাবি বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে।