ইউজিসি অধ্যাপক

ভেটেরিনারি সায়েন্সে দক্ষ বিজ্ঞানী বাড়লেও স্বীকৃতি নেই

দেশে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দক্ষ বিজ্ঞানীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে কাজের যথাযথ প্রচার ও স্বীকৃতি সবসময় মেলে না। সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগ, স্কলারশিপ এবং বিনামূল্যে ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু হওয়ায় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, যান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা। হিট প্রকল্প সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

মো: লিখন ইসলাম, বাকৃবি

Location :

Mymensingh
বাকৃবিতে ভেটেরিনারি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়
বাকৃবিতে ভেটেরিনারি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভেটেরিনারি শিক্ষাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে 'ভেটেরিনারি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ' শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমুদ্দিন খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে ভেটেরিনারি সায়েন্সে দক্ষ বিজ্ঞানীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে কাজের যথাযথ প্রচার ও স্বীকৃতি সবসময় মেলে না। সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগ, স্কলারশিপ এবং বিনামূল্যে ভেটেরিনারি ক্লিনিক চালু হওয়ায় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, যান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা। হিট প্রকল্প সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদ ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করেছে । মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা। এছাড়াও ভেটেরিনারি অনুষদের সকল বিভাগের শিক্ষক ও অন্যান্য অনুষদের শিক্ষকরা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপরিকল্পনা ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মুহাঃ ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি জানান, হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক রিসার্চ অ্যাওয়ার্ডিং প্রক্রিয়ায় প্রথম পর্বে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দুই বছর মেয়াদি এ গবেষণা প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত হয়।

প্রকল্পের প্রত্যাশিত ফলাফল নিয়ে প্রকল্পের সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মুহাঃ ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত কাজের মাধ্যমে এমন শ্রেণিকক্ষ গড়ে তোলা হবে যেখানে প্রতিটি লেকচার ডিজিটালি রেকর্ড থাকবে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সীমাবদ্ধতা থাকবে না। তারা যেকোনো সময় পাঠ দেখতে পারবে। পাঠদান হবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং একঘেয়েমি দূর করতে আধুনিক উপস্থাপন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বৃদ্ধি করা হবে। শিক্ষার্থীদের গবেষণায় যুক্ত করা হবে। হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালকে আরো আধুনিক করা হবে। লক্ষ্য একটিই যে একজন শিক্ষার্থীকে ক্লিনিক্যালি দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে গড়ে তোলা।

ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, স্মার্টনেস শুধু পোশাক বা উপস্থাপনায় নয়, এটি আসে জ্ঞান ও চিন্তার গভীরতা থেকে। আগে শিক্ষকরা চক-ডাস্টার দিয়ে পড়াতেন। পরিশ্রম করতেন। আন্তরিকতা ছিল প্রশ্নাতীত। এখন স্লাইডভিত্তিক শিক্ষা এসেছে। তবে সব বিষয়ের জন্য একই পদ্ধতি প্রযোজ্য নয়। কোথাও স্লাইড দরকার, কোথাও আলোচনা, কোথাও ছবি বা ভিডিও, আবার কোথাও ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব বেশি। কোন বিষয় কীভাবে পড়ানো হবে, তা নির্ভর করে শিক্ষকের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার ওপর।প্রকল্পের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষকরা আরও নিবিড়ভাবে পাঠদান করতে পারবেন।