কুয়েটে এবার অন্তর্বর্তী ভিসির পদত্যাগ দাবি শিক্ষকদের

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষক সমিতি।

নয়া দিগন্ত অনলাইন

Location :

Khulna
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) মূল ফটক
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) মূল ফটক |ইউএনবি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অন্তর্বর্তীকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলীর প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। চলমান সঙ্কট নিরসনে অন্তর্বর্তী ভিসির পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষকরা।

বুধবার (২১ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এ সময় একজন যোগ্য ভিসি নিয়োগ দেয়ার জন্যও সরকারের কাছে দাবি জানায় শিক্ষক সমিতি।

এসব দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ফারুক হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থাকা, ছাত্র-শিক্ষক সবার দাবির প্রতি অবজ্ঞা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবকের দায়িত্বে থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন না করায় শিক্ষকেরা মনে করেন, বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি কুয়েটের দায়িত্ব পালনে অক্ষম। এজন্য শিক্ষকেরা তার প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন। তাই তাকে দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে।’

তিনি আরো জানান, শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবিতে তারা ৪ মে থেকে ক্লাস বর্জন ও ১৮ মে থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করে আসছেন। কিন্তু তারপরও ভিসি তাদের দাবি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেননি। এর মাধ্যমে ভিসি কুয়েটের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমের প্রক্রিয়া আটকে রেখেছেন। ক্যাম্পাসে সঙ্কটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ভিসি দাফতরিক কাজের কথা বলে ১৯ মে ঢাকায় যান। পরদিন ফিরে আসার বলেছিলেন শিক্ষকদের। কিন্তু এখনো তিনি ক্যাম্পাসে ফিরে আসেননি। কুয়েটের যে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন তা-ও ফেরত পাঠিয়েছেন। তিন দিন ধরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও কর্ণপাত করেননি তিনি। ভিসি সবার দাবির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছেন।’

অধ্যাপক ফারুক হোসেন বলেন, ‘তার অনুপস্থিতিতে যাকে রুটিন মাফিক করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি বুধবার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না বলে লিখিতভাবে ভিসিকে জানিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে কুয়েট অভিভাবক শূন্য। এ অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ভিসি নিয়োগ দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা বলেন, দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষকদের রাস্তায় নামতে হবে, এটা খুবই দুঃখজনক।

এর আগে, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ভিসির কক্ষ ও প্রশাসনিক ভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের এক অংশ এসে তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।

তবে গত তিন মাস ধরে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের আরেকটি অংশ আপাতত কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

তার আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অচলাবস্থা চলছে। পরে শিক্ষার্থীদের এক দফা আন্দোলন ও আমরণ অনশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ এপ্রিল ভিসি ও প্রো-ভিসিকে অপসারণ করে সরকার। এরপর গত ১ মে অন্তর্বর্তী ভিসি হিসেবে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: যরত আলীকে নিয়োগ দেয়া হয়।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ মে থেকে ক্লাস শুরুর কথা থাকলেও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ফেরেননি শিক্ষকরা। ছাত্রদের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিতের বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবেন না বলে জানিয়েছে কুয়েট শিক্ষক সমিতি।

এদিকে, ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী। এখনো শুরু হয়নি নতুন ব্যাচের ক্লাস। সূত্র : ইউএনবি