গোবিপ্রবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে তীব্র আসন সঙ্কট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

আসন সঙ্কট, অপর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা ও চাহিদা অনুযায়ী বইয়ের স্বল্পতার মধ্য দিয়েই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির কার্যক্রম।

মো: নাঈম আশরাফ, গোবিপ্রবি

Location :

Gopalganj
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি |নয়া দিগন্ত

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়েনি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির আসন সংখ্যা। আসন সঙ্কট, অপর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা ও চাহিদা অনুযায়ী বইয়ের স্বল্পতার মধ্য দিয়েই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির কার্যক্রম।

জানা গেছে, ১০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে লাইব্রেরির আসন সংখ্যা মাত্র ২০০। শিক্ষার্থী ও আসনের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১:৫০। পর্যাপ্ত আসন না থাকায় পড়তে এসেও অনেক শিক্ষার্থীকে ফিরে যেতে হচ্ছে। এছাড়াও কাঙ্ক্ষিত ইন্টারনেট ব্রাউজিং সুবিধা না পাওয়া এবং প্রয়োজনীয় বই না থাকার অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। লাইব্রেরির আশপাশের শব্দের কারণে পড়াশোনায় মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হয়ে দিন দিন লাইব্রেরিবিমুখ হয়ে পড়ছে।

লাইব্রেরিতে বর্তমানে প্রায় ৩৬ হাজারের বেশি বই থাকলেও নিয়মিত কোর্সভিত্তিক সব বই পাওয়া যায় না। বিশেষায়িত বইয়েরও রয়েছে তীব্র সঙ্কট। নেই কোনো আন্তর্জাতিক জার্নাল, ই-বুক অ্যাপস কিংবা পর্যাপ্ত ডিসপ্লে সিস্টেম। শিক্ষকদের জন্য অ্যান্টি-প্লেজিয়ারিজম সফটওয়্যারও এখনো চালু হয়নি। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নেই কোনো কম্পিউটার, প্রিন্টার বা ফটোকপি মেশিন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে পড়াশোনা করছেন। দুই চেয়ারের মাঝে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা না থাকায় কেউ উঠলে পুরো রুমে শব্দ ছড়িয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত বই ও প্রযুক্তিগত সুবিধার অভাব, পাশাপাশি বাজেট সঙ্কটের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিক্ষার্থীরা দ্রুত লাইব্রেরির আসন সঙ্কট সমাধান, ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়ন, চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ, জব কর্নার স্থাপন এবং লাইব্রেরির আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রনি সরকার বলেন, ‘গবেষণা ও পড়াশোনায় উদ্বুদ্ধ হতে লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও লাইব্রেরির আসন বাড়ছে না। অনেক সময় পড়তে এসে জায়গা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। এছাড়াও পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা নেই। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান চাই।’

লাইব্রেরির এসব সঙ্কট নিয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে জায়গা ও জনবল সঙ্কটের কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। চারতলা ভবনের পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে দোতলা ভবনে কার্যক্রম চলছে। এছাড়া অটোমেশন ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কাজ ম্যানুয়ালি করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবে উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লাইব্রেরি খোলা থাকলেও সপ্তাহে ১৩টি শিফট পরিচালনায় জনবল সঙ্কট কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তবে সব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

এ বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘এসব বিষয় বাজেটের সাথে সম্পর্কিত। সবখানেই বাজেট হ্রাস করা হচ্ছে, যার কারণে এখন অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও অনেক বিষয় আমলে নেয়া হয়েছে। বই কেনার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। আসবাবপত্রের বিষয়গুলোও ধীরে ধীরে দেখা হবে। তবে সবকিছুই বাজেটের ওপর নির্ভরশীল। এ অর্থবছরের বাজেট ইতোমধ্যে শেষ।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে এক হাজার ৪০০ বই নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে লাইব্রেরিতে অ্যাকাডেমিক বই, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই, গল্প-উপন্যাসসহ মোট ৩৬ হাজার ১৫২টি বই রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে এক হাজার ৫০০টি প্রিন্ট জার্নাল ও ৫০০টি ম্যাগাজিন।