শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত হয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি নতুন তারিখ ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন পৃথক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কেউ সময় পরিবর্তনকে যৌক্তিক বলছেন, আবার কেউ এটিকে প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) শাকসু নির্বাচনের এ নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি রাহাত জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই ছুটির পরে নির্বাচন চেয়ে আসছিলাম। কারণ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে অনেক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইনটার্ন, ল্যাব চলমান থাকত এবং ভোটগ্রহণের দিনটি ছুটির মধ্যে হওয়ায় ভোটের হার কম হতো। এছাড়া নির্বাচনের আগে প্রস্তুতিরও সময় প্রয়োজন।’
ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ স্থগিত করে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অনেক আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটা পক্ষের চাপে পড়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে আসছে। আর জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে টালমাটাল পরিস্থিতিতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায়, নির্বাচন হওয়া নিয়ে আমরা সন্দিহান।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্তমান এ পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়ী।’
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি আজাদ শিকদার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘অধিকাংশ ছাত্র সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সুস্পষ্ট মতামত থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই শাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে আমরা স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কা করছি— তারা সামনে নতুন তারিখে নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করতে পারবে কিনা তা অনিশ্চিত।’
তিনি আরো বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ক্যাম্পাস ও জাতীয় পরিসরে একটি রাজনৈতিক উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি হবে। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু, ও অংশগ্রহণমূলক ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন আরো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তারপরও আমরা আশাবাদী— ২০ জানুয়ারি তারা যদি সকল বাধা ও সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে শাকসু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে, তবে এটি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত এবং ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের শাবিপ্রবি শাখার সভাপতি জুনায়েদ আহমদ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ডিসেম্বরের ১৭ তারিখে নির্বাচন আয়োজনের যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, সে তারিখে ২০% শিক্ষার্থীও ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকবে কি না— আমরা সে বিষয়ে সন্দিহান ছিলাম। এজন্য আমরা জানিয়েছিলাম যে উক্ত তারিখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনও ১৭ ডিসেম্বরের আগে নির্বাচন আয়োজন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছিল। সকল সংগঠনের সাথে আলোচনা ও সম্মতির ভিত্তিতেই আজ ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সম্মতিপ্রক্রিয়ায় আমরাও অংশগ্রহণ করেছি। আমি মনে করি, ২০ জানুয়ারির নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক। আমরা এ তারিখকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাচ্ছি।’



