বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে ভুয়া পেজ থেকে অপপ্রচার বন্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা ছাত্রদল। গোপন রাজনৈতিক পরিচয়ে সামাজিক সংগঠনের আড়ালে কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে এই স্মারকলিপি জমা দেয় ছাত্রদল।
একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলরের (ভিসি) কাছে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে গত বুধবার ছাত্রদলের ওপরে ছাত্রশিবিরের হামলার অভিযোগে আরেকটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ছাত্রদল। যেখানে জড়িতদের শাস্তি এবং যথাযথ বিচার চেয়ে ৪টি দাবি দেয়া হয়েছে।
ভুয়া পেজ থেকে অপপ্রচার বন্ধে ছাত্রদলের দেয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি সুষ্ঠু, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস বিনির্মাণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কতিপয় নেতাকর্মী তাদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন নামসর্বস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আড়ালে ক্যাম্পাসে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আরো উল্লেখ করা হয়েছে, একই সাথে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভুয়া পেজ ও গ্রুপ পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তিকর, সত্যসংকোচনকারী ও উসকানিমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা ও একাডেমিক পরিবেশ ক্ষুণ্ণ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
স্মারকলিপিতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে যে চারটি দাবি দেয়া হয়েছে, দাবিগুলো হলো-
১. সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করে পরিচালিত সকল অননুমোদিত ও ভুয়া পেজ/গ্রুপ দ্রুত চিহ্নিত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ও সাইবার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় ও লোগো ব্যবহার করে কেবল অনুমোদিত অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম ছাড়া অন্য কোনো পেজ যেন বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।
৩. গোপন পরিচয়ে বা বিভিন্ন সংগঠনের আড়ালে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে, সংগঠনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংগঠনের বিভিন্ন বিষয়কে রাজনীতিমুক্ত ঘোষণা করে গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ করতে হবে।
ছাত্রদলের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসের অ্যাকাডেমিক পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে উল্লিখিত বিষয়গুলোর ওপর সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।



