আবারো হাবিপ্রবিতে ফিরছে পুরোনো ছাত্ররাজনীতির ছায়া?

সম্প্রতি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বিজয় চব্বিশ হল ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হল গ্রুপের দু’টি স্কিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের হাত ধরে আবারো পুরোনো ছাত্ররাজনীতির ছায়া ফেরার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

রাফিউল হুদা, হাবিপ্রবি

Location :

Dinajpur
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় |নয়া দিগন্ত

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই সারাদেশের সকল ক্যাম্পাসের ন্যায় দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও (হাবিপ্রবি) বিগত ১৭ বছরের গণরুম, গেস্টরুম বা সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনের প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করার মতো সংস্কৃতি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। শিক্ষার্থীরাও প্রত্যাশা করেছিলেন ক্যাম্পাসে হয়তো নতুন কোনো ছাত্রসংগঠনের হাত ধরে আর ফিরবে না সেই পুরোনো দিনের ছাত্ররাজনীতির শোষণের সংস্কৃতি।

কিন্তু সম্প্রতি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বিজয় চব্বিশ হল ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হল গ্রুপের দু’টি স্কিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের হাত ধরে আবারো পুরোনো ছাত্ররাজনীতির ছায়া ফেরার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্কিনশটে দেখা যায়, এক শিক্ষার্থী হলের ম্যাসেঞ্জার গ্রুপে লিখেছেন, আগামীকাল শুক্রবার রাত ৮ টা ৪৫ মিনিটে ছাত্রদল, হাবিপ্রবির নতুন কমিটিকে আমাদের হলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হবে ৷ ২৪ ব্যাচের প্রত্যেককে ৮ টা ৪৫ মিনিটের আগেই হলের টিভি রুমে থাকতে হবে।

স্কিনশটটিতে আরো দেখা যায়, সময় মতো উপস্থিত থাকার এই আদেশটি দিয়েছেন বিজয় চব্বিশ হলের ২০ ব্যাচের ভাইয়েরা। শুধু তাই নয় এই সময় হলে অবস্থান করেও উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না আসলে, যে আসবে না সেটা তার পার্সোনাল রেসপন্সিবিলিটি এমনটিও বলা হয়েছে।

অন্য স্কিনশটটিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহি লিখেছেন, ‘সবাই হলের নিচে আয় তাজমুল ভাই আসতে বললো। না আসলে রাতে মিটিং দিবে বলছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্কিনশটে নাম আসা তাজমুল বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং সম্প্রতি আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল কমিটির সভাপতি এহেসানুল কবির অর্ণবের অনুসারী।

একাধিক সূত্র জানায়, বিগত ৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশের পর সকল হলে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে গত বৃহস্পতিবার (৯ই জুলাই) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে গিয়েছিলেন সভাপতি এহেসানুল কবির অর্ণব। জিয়াউর রহমান হলের পর বিজয় ২৪ হলেও যাওয়ার কথা ছিলো তার। তার আগমনকে কেন্দ্র করেই নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্কিনশট দুটিতে।

হাবিপ্রববি ছাত্রদলের কমিটি আসার কয়েকদিনের মাথায় হল গ্রুপগুলোতে এমন নির্দেশনা দেখে শঙ্কিত শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রত্যাশা, ছাত্রদল পুনরায় আর সেই পুরোনো শোষণের রাজনীতি ক্যাম্পাসে ফেরাবে না। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, কেউ নিজ ইচ্ছায় যেকোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হতে পারেন কিন্তু জোর করে সবাইকে প্রোগ্রামে থাকতে বাধ্য করা পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি। যা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

এ বিষয়ে হাবিপ্রবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুকুনুর জামান রুকু বলেন, ‘ছাত্রদল করার জন্য অতীতে কাউকে জোর করা হয়নি, ভবিষ্যতেও করা হবে না। ছাত্রদলের প্রতি যাদের ভালোবাসা আছে, তারা এমনিই আমাদেরকে খুঁজে নেবে। ভাইরাল স্ক্রিনশটগুলোতে ছাত্রদলের কোনো হাত নেই। ছাত্রদলের রাজনীতি হবে শিক্ষার্থীবান্ধব ও জবাবদিহিতামূলক। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস এবং শিক্ষার্থীদের পালস বুঝে রাজনীতি করাই আমাদের লক্ষ্য।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই। একই সাথে ছাত্রদলের প্রতি আহ্বান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিন। জবরদস্তিমূলক রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত ও সিদ্ধান্তকে সম্মান করুন। শিক্ষার্থীরা আর ক্যাম্পাসে গণরুম, গেস্টরুম বা ভয়ভীতির রাজনীতি দেখতে চায় না।’