বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সঙ্ককটের মধ্যে ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। একইসাথে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বন্ধ রেখে আবারো ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার থেকে এ কর্মসূচি কার্যকর হবে।
রোববার ( ১০ মে) সাধারণ শিক্ষকদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান সঙ্কট নিরসনে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায় তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে দুই শিক্ষক পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাহাত হোসাইন ফয়সাল এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মাদ তানভীর কায়ছার।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ এপ্রিল ভিসি, সিন্ডিকেট সদস্য, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও ডিনদের অংশগ্রহণে এক ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শনিবারের সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও প্রচলিত চর্চা অনুযায়ী চলমান সঙ্কট সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়েছিল।
তবে অভিযোগ করা হয়, ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম শুক্রবার রাত ১০টায় হঠাৎ নোটিস দিয়ে শনিবার সকাল ১১টায় এজেন্ডাবিহীন জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। ওই সভায় অধিকাংশ সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।
এর প্রতিবাদে রোববার শিক্ষকদের সাধারণ সভায় ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্তও হয়।
পদত্যাগকারী প্রক্টর রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, “কাজ করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ভিসির কার্যক্রমে সবাই হতাশ। বিভিন্ন বিষয়ে বারবার অনুরোধ করার পরও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই পদত্যাগ করেছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবির জানান, প্রক্টরের পদত্যাগপত্র পাওয়া গেছে এবং তা ভিসির কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে সিন্ডিকেট সদস্য মুহাম্মাদ তানভীর কায়ছারের পদত্যাগের কথা শোনা গেলেও এখনো লিখিতপত্র পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “সিন্ডিকেট সদস্য তানভীর কায়ছার অসুস্থ। তিনি চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাবেন বলে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। চিকিৎসা শেষে দায়িত্ব পালন করতে চাইলে তিনি দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারবেন।”
তিনি আরো বলেন, “শনিবারের সিন্ডিকেট সভায় সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি প্রণয়ন করে শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয় নিষ্পত্তি করা হবে। এরপরও এ ধরনের কর্মসূচি কেন দেয়া হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।”
শিক্ষকদের অভিযোগ, নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের ৪৫ দিনের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বোর্ড সভা শুরু হলেও পরে তা অনুমোদনের জন্য সিন্ডিকেট সভা আহ্বানে বিলম্ব করা হয়। এছাড়া সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত করার বোর্ড সভাও আয়োজন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।



