ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল নির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ঢাবির প্রতিটি প্রবেশ পথে চলছে তল্লাশি, তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও হল আইডি কার্ড ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডাকসু নির্বাচনের দিন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও সোয়াটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডাকসু ও হল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি প্রবেশ মুখে রয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র ও গণমাধ্যম কর্মী ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে ছাত্র-শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আইডি কার্ড ও গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশের অনুমতি পত্র দেখাতে হচ্ছে। অনুমতি ছাড়া কাউকেই ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
তাছাড়া কোনো ধরনের যানবাহনও ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোকে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। অন্য দিকে যাদের অনুমতি পত্র আছে তাড়াও গাড়ি নিয়ে ভেতরে যেতে পারছে। বাইরে উৎসুক জনতা ভিড় থাকলেও সবাইকে নির্দিষ্ট দূরে অবস্থান করার জন্য বলা হয়।
ঢাবি প্রশাসনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সকালের দিকে ভোটার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকলেও ১০টার পর থেকে বাড়তে শুরু করে। তবে আইডি কার্ড না থাকলে তাদের ভিন্ন কোনো প্রমাণ দেখাতে হয়।
প্রশাসন বলছে, ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ যেন তৈরি না হয় সেজন্যই এই কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে। তাই অনুমতি ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
এর আগে, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার সাজ্জাত আলী সোমবার এক সংবাদ সম্মেলেনে জানান, নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি র্যাব, সোয়াট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা টিমও কাজ করছে।
গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন হল, কেন্দ্র ও আশপাশের সড়কে পুলিশ সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই আজকের নির্বাচন সম্পন্ন হবে।



