ঢাবিতে ‘জাতীয় পতাকা উৎসব’ ঘিরে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

প্রদর্শনীতে জাতীয় পতাকার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তোলা দুর্লভ আলোকচিত্র স্থান পায়।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
আলোচনা সভা শেষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন অতিথিরা
আলোচনা সভা শেষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন অতিথিরা |নয়া দিগন্ত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘জাতীয় পতাকা উৎসব-২০২৬’ উপলক্ষে ‘পতাকায় বিপ্লব ও গৌরব’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা সংলগ্ন বটতলায় এ আয়োজন করে সংগঠন ‘বাংলা রেকর্ডস’।

সংগঠনের সভাপতি ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব জাফর রাজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাওসুল হক, ডাকসুর সাবেক জিএস ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানুল্লাহ আমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “পূর্ব বাংলার মানুষের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে যে স্থানে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, তার সামনে কলা ভবনের তৎকালীন গাড়িবারান্দা থেকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আ স ম আব্দুর রব পতাকা উত্তোলন করেন। পতাকার নকশা প্রণয়ন করেন ছাত্রনেতা শিব নারায়ণ দাস।”

সভাপতির বক্তব্যে জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসে পাঁচ বছর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বের অনেক দেশ তাদের ইতিহাস সুসংরক্ষিতভাবে আর্কাইভ করে রাখে, যাতে তা বিকৃতির শিকার না হয়। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে জাতীয় আর্কাইভ থাকলেও তা কার্যকরভাবে সংরক্ষিত নয়। অবসরের পর আমরা কয়েকজন মিলে ‘বাংলা রেকর্ডস’ প্রতিষ্ঠা করি। আমাদের লক্ষ্য স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ডিজিটালি সংরক্ষণ করা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাওসুল হক বলেন, “জাতীয় পতাকা হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম, অসংখ্য মানুষের শ্রম, ঘাম ও রক্ত। পতাকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের ঐতিহ্য, চেতনা, বিশ্বাস ও আত্মপরিচয়।”

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান বলেন, “যারা অতীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারাই আবার বিভিন্নভাবে জাতীয় পতাকাকে ব্যবহার করতে চায়। এ বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।”

আলোচনা সভা শেষে প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন অতিথিরা। প্রদর্শনীতে জাতীয় পতাকার ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তোলা দুর্লভ আলোকচিত্র স্থান পায়।